
সামজাদ জসি, ব্যুরো চিফ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া— তিতাস বিধৌত এই জনপদ ঐতিহ্যে অনন্য, কিন্তু বর্তমানে শহরটির প্রাণ ওষ্ঠাগত। ১২টি ওয়ার্ডের এই সুবিশাল পৌরসভার প্রতিটি অলিগলি যেন আজ সমস্যার এক একটি জীবন্ত বিজ্ঞাপন। যেখানে নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা, সেখানে প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সমস্যার চক্রব্যূহে ১২টি ওয়ার্ড শহরজুড়ে উন্নয়নের জোয়ারের গল্প শোনা গেলেও বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে যেমন নাভিশ্বাস ওঠে, তেমনি সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা পুরো শহরকে থমকে দেয়। ড্রেনের উপচে পড়া ময়লা জল আর নাকে আসা অসহ্য দুর্গন্ধ এখন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো রোগজীবাণু আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
যানজট ও নিরাপত্তাহীনতা: নিজের শহরেই কি আমরা পরবাসী?
ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের নামতে হচ্ছে মূল রাস্তায়, আর সেখানে হাহাকার সৃষ্টি করছে তীব্র যানজট। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ছিনতাই আর দখলদারিত্বের দাপট। একজন নাগরিক যখন নিজ শহরে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারেন না কিংবা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন না, তখন প্রশ্ন জাগে— **এটাই কি আমাদের প্রাপ্য ছিল?**
নীরবতা নয়, কণ্ঠস্বরেই আসুক পরিবর্তন
আমরা অনেক সময় অভিযোগ করি, কিন্তু প্রতিবাদ করি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখি, কিন্তু সামনাসামনি কথা বলি না। তবে মনে রাখতে হবে, **”নীরবতায় কিছু বদলায় না, কণ্ঠস্বরেই জন্ম নেয় পরিবর্তন।”** সময় এসেছে ব্যক্তিগত গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি মাঠে নামার।
সমাধানের লক্ষ্যে এক নতুন যাত্রা শুধুমাত্র লেখালেখিতে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার শুরু হচ্ছে সরাসরি গণসংযোগ। আপনার পাড়ায়, আপনার এলাকায় গিয়ে সরাসরি আপনার অভিযোগ আর কষ্টের কথা শোনা হবে। সেই দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরাই হবে এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই আমাদের হারানো গৌরব ফিরে পাক ব্রাহ্মণবাড়িয়া; দখলমুক্ত ফুটপাত, যানজটমুক্ত রাস্তা আর পরিচ্ছন্ন এক শহর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাকে বাসযোগ্য করার লড়াইটা আমাদের সবার। আসুন, ভয় আর জড়তা কাটিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ে এক হই। আপনার সমস্যা এখন আর শুধু আপনার একার নয়, আমাদের সবার। আমরা সরব হলেই কেবল নড়বে প্রশাসনের হাত, ফিরবে প্রাণের শহর।