মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সুনামগঞ্জে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরতে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত মহা অষ্টমীতে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান বিতরণ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান কামাল নকলায় এসবিসি প্রকল্পের এমএনসিএএইচ বিষয়ে জনসংলাপ

নকলায় কুকুরের কামড়ে আহত ১৯ ॥ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২৮ জন

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
  • সংবাদ প্রকাশ বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬৩ বার পড়া হয়েছে
৪২১

শেরপুরের নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার নকলা পৌরসভা, নকলা ইউনিয়ন, বানেশ্বরদী, উরফা ইউনিয়ন ও টালকী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

তথ্য মতে, এদিন কুকুরের আক্রমন ছাড়াও বিড়ালের আঁচরের আক্রমনসহ বিভিন্ন বয়সের আহত অন্তত ২৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়াসহ জলাতঙ্কের টিকা (অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) গ্রহন করেছেন। এদিকে, বিকেলেই এলাকাবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ভ্যাকসিন প্রদান রেজিষ্ট্রার খাতার তালিকা মোতাবেক পৌরসভার বাজারদী এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আরাব (৫), মানিক মিয়ার মেয়ে নেজাত (১২), আব্দুর রহমানের ছেলে রায়ান (৫), খলিলের মেয়ে মীম (৫) ও ফিরোজ মিয়ার ছেলে রিয়াজ কবির (২০); কায়দা এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে ঝিনুক (৯), লূৎফরের ছেলে সজিব (১৩), আব্দুল হালিমের মেয়ে শাহানাজ (২৬), শামীমের মেয়ে তোহা (১৩) ও আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মর্জিনা (৪৫); কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার মিরাজ আলীর ছেলে জিহাদ (৯) ও ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মিন্টু মিয়া (৫৬); নকলা ইউনিয়নের ধনাকুশা গ্রামের সেকান্দর আলীর স্ত্রী ছকিনা বেগম (৩৫) ও ছত্রকোনা এলাকার নছর আলীর ছেলে আতর আলী (৫৫); গ্রীনরোডের দড়িপাড়া মহল্লার নুরুল আমীনের স্ত্রী রেনু বেগম (৬০), কলাপাড়া এলাকার সফর উদ্দিনের ছেলে আবেদালী (৩০), বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বানেশ্বরদী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সৌখিন (২১), উরফা ইউনিয়নের রিহিলা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রিজন মিয়া (১১), টালকী ইউনিয়নের মজিদবাড়ী এলাকার আব্দুল মজিদের মেয়ে জাকিয়া আক্তার (১৫)। তবে এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুকুরে কামাড়ে ও বিড়ালের আচরে আক্রান্ত হওয়া মোট ২৮ জন জলাতঙ্কের টিকা (অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) গ্রহন করেছেন।

আহতদের মধ্যে ২ জন মারাত্মক জখম হওয়ায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত সহকারী সার্জন ডা. মো. নাজমুল হোসেন। তিনি আরো জানান সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করেই কুকুরে কামাড়ে ও বিড়ালের আচরে আক্রান্ত রোগীর ভিড় পড়ে যায়। রোগীর সেবাদান তরান্বিত করতে ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন রোগীর লিখিত তথ্য রাখা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ‘এর আগে কুকুরের কামড়ে ও বিড়ালের আঁচরে আহত হয়ে একদিনে এতো রোগী নকলা হাসপাতালে আসার নজির নেই। তিনি জানান, কুকুরের কামড়ে ও বিড়ালের আঁচরের ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আসতে হবে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানান। নিয়ম মেনে অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহন করলে কোন সমস্যা থাকেনা বলেও জানান ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন-এঁর নজরে আসে। পরে তিনি নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। ইউএনও তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করেন এবং পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নকলা হাসপাতালে সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি বলেন ‘নকলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ আছে। আহতদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে।’ তাছাড়া হাসপাতালের বাহির থেকে যদি কারো কোনো ঔষধ কেনার প্রয়োজন হয় তাহলে পৌরসভা থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

জরুরি জনসেবা বিবেচনায় এবিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করায় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন অনেকে। জনগণের মুখে মুখে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তারা।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102