
স্টাফ রিপোর্টার:: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের প্রতিনিধি দল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশেষ টিমের নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকবে। বিসর্জন পর্যন্ত মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর মডেল থানা হলরুমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল আমিন মীর।
সভায় জানানো হয়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে।
সভায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাঁদের আয়োজন, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরেন। কয়েকটি মণ্ডপের অচল সিসি ক্যামেরা দ্রুত সচল করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজার পুরো সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহলের দাবি জানান তাঁরা।
জবাবে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জৈন্তাপুরে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সব মণ্ডপে প্রতিদিন পুলিশের বিশেষ টিম নিয়মিত টহল দেবে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি রেজিস্টার রাখা হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সেখানে স্বাক্ষর করবেন।
কোনো ধরনের সমস্যা, বিশৃঙ্খলা বা সন্দেহজনক ঘটনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর জন্য হটলাইন নম্বর দেওয়া হবে। কোনো কারণে হটলাইনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা নেওয়া যাবে।
মহাসড়কের পাশে থাকা পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে দর্শনার্থীদের চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনে আলোকসজ্জার জন্য পৃথক জেনারেটর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিমা মণ্ডপে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিসর্জন পর্যন্ত পুলিশ মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বাস দেন ওসি।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তাদের তালিকা থানায় জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে আজান ও নামাজের সময় সীমিত সময়ের জন্য মাইক, বাদ্যযন্ত্র ও ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়। অচল সিসি ক্যামেরা দ্রুত সচল করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যাদবময় বিশ্বাস, জৈন্তাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাস্টার দুলাল চন্দ্র দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি নিবারণ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রণত কান্ত দেব, জৈন্তাপুর উপজেলা কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার শর্মা, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়মতী বিশ্বাস, শঙ্কর কৃষ্ণ দাস, পূজা পরিষদের সহসভাপতি নান্টু ধর, ধীরেন্দ্র দেবনাথ, নিরদ দাস, চৈতন্য বিশ্বাস, গণসংযোগ সম্পাদক রাজেশ দাশ, প্রচার সম্পাদক নিত্যলাল বিশ্বাস, ভক্ত চন্দ্র দাস, ইন্দ্রজিত বিশ্বাস, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি পলাশ দাস, সাধারণ সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক কিরণ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।
সভায় পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপগুলোর নেতৃবৃন্দ জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের প্রস্তুতির প্রশংসা করেন এবং পূজার সময় সার্বক্ষণিক তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পূজামণ্ডপে আমন্ত্রণ জানান।
সভা শেষে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।