শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নকলায় সাড়ে ১০ হাজার পরিবারের মাঝে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি নকলায় হেলথকেয়ার সেন্টারের পক্ষথেকে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন ঝিকরগাছায় বিজ্ঞান স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের হরিনগরে বাড়ির ছাঁদ থেকে গাঁজার গাছসহ ১ জন আটক প্রয়াত ধামাইল শিল্পী সৃষ্টি চৌধুরীর পুণ্যস্মরণে বৈষ্ণব সেবা, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও পদাবলী কীর্তন অনুষ্ঠিত শেরপুরে সংঘবদ্ধ হামলার স্বীকার সাইফ মারা গেছেন! বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরে আলোচনা ও পরিকল্পনা সভা হাওরকন্যা ইমার জয়যাত্রা: দেশের পতাকা বুকে নিয়ে একের পর এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে জেলার শ্রেষ্ঠ নকলার ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা

অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন: রোগীর নিরাপত্তায় ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করণ এখন সময়ের দাবী

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে
১৪২

অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন: রোগীর নিরাপত্তায় ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করণ এখন সময়ের দাবী

রাহমান তৈয়ব

স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রোগীর জন্য সঠিক ওষুধ নিশ্চিত করা। একজন চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করার পর প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে রোগীর জন্য যে ওষুধ নির্ধারণ করেন, সেটিই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা আমাদের স্বাস্থ্যখাতে আলোচিত হয়ে আসছে—ডাক্তারদের অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হাতের লেখা। অনেক সময় প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধের নাম, ডোজ কিংবা সেবনবিধি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না। এর ফলে রোগী যেমন বিভ্রান্ত হন, তেমনি ফার্মেসির কর্মীরাও পড়ে যান বিপাকে। তাই সঠিক ওষুধ নিশ্চিত করতে ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ডাক্তারদের হাতের লেখার বিষয়টি নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকদের ব্যস্ততা, দ্রুত রোগী দেখার চাপ কিংবা দীর্ঘদিনের অভ্যাস—এসব কারণে অনেক সময় তারা তাড়াহুড়ো করে প্রেসক্রিপশন লিখে থাকেন। ফলে লেখাটি এমনভাবে লেখা হয় যে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কখনো কখনো ফার্মাসিস্টদের পক্ষেও তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ভুল ওষুধ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রেসক্রিপশন ভুল পড়ে ভুল ওষুধ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত ভুলের একটি বড় অংশ প্রেসক্রিপশনজনিত সমস্যার কারণে ঘটে। কখনো ওষুধের নাম ভুল পড়া হয়, কখনো আবার ডোজ বা সেবনবিধি ভুল বোঝা হয়। এর ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, কখনো রোগ জটিল আকার ধারণ করে, আবার কখনো জীবনহানির মতো ঘটনাও ঘটে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রেসক্রিপশন স্পষ্টভাবে লেখা অত্যন্ত জরুরি।

গ্রামাঞ্চলের রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বেশি প্রকট। অনেক রোগী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বুঝতে না পেরে ফার্মেসির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু সব ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট থাকেন না। ফলে অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এতে রোগী সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তাই রোগীর নিরাপত্তার স্বার্থেই ডাক্তারদের উচিত এমনভাবে প্রেসক্রিপশন লেখা যাতে তা সহজেই পড়া ও বোঝা যায়।

এখানে অবশ্য চিকিৎসকদের ওপর এককভাবে দোষ চাপিয়ে দেওয়াও সমাধান নয়। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। একজন চিকিৎসককে স্বল্প সময়ে অনেক রোগী দেখতে হয়। এই চাপের মধ্যেই তাকে রোগ নির্ণয়, পরামর্শ প্রদান এবং প্রেসক্রিপশন লিখতে হয়। ফলে অনেক সময় লেখার প্রতি অতটা মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই সমস্যাটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা চালু করা। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে ই-প্রেসক্রিপশন বা কম্পিউটারভিত্তিক প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। এতে চিকিৎসক কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ওষুধের নাম, ডোজ এবং নির্দেশনা লিখে দেন, যা স্পষ্টভাবে প্রিন্ট আকারে রোগীকে দেওয়া হয়। ফলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া চিকিৎসা শিক্ষার সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে পরিষ্কার ও মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। প্রেসক্রিপশন লেখার নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসরণ করলে অনেক সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ওষুধের নাম বড় হাতের অক্ষরে লেখা, ডোজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং সেবনবিধি পরিষ্কারভাবে লিখে দেওয়া—এসব ছোট ছোট বিষয় রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফার্মাসিস্টদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একটি মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট পরস্পরের সহযোগী। প্রেসক্রিপশন নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে ফার্মাসিস্টের উচিত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া। এতে ভুল ওষুধ দেওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

সবশেষে বলা যায়, প্রেসক্রিপশন একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা নথি। এটি কেবল একটি কাগজ নয়; বরং রোগীর সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি নির্দেশনা। তাই এর প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট ও নির্ভুল হওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের সামান্য সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।

রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করা এবং আধুনিক প্রেসক্রিপশন পদ্ধতি চালু করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট,

 

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102