মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
জামালগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোনায় ১২৫ গ্রাম হেরোইনসহ কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ললিতা আক্তারসহ তিনজন আটক সামনে চলা সুবিপ্রবিতে নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, দায়িত্বে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার শান্তিগঞ্জে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা নেত্রকোনায় দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক নকলায় বিএডিসি সার বীজ ডিলার এসোসিয়েশন’র সভাপতি শাহিনুর, সম্পাদক নাহিদ নকলায় পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালো রাব্বি জামালগঞ্জে বিদায়ী এসিল্যান্ড মিনহাজুল ইসলামকে সংবর্ধনা নেত্রকোণায় ৭৫টি ভারতীয় কম্বল জব্দ, চোরাচালান মামলায় দুই যুবক গ্রেপ্তার

শ্রমিক দিবসের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ☞ শেখ একেএম জাকারিয়া

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
২১৫

✪ শেখ একেএম জাকারিয়া

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের জন্য পহেলা মে একটি স্মরণীয় দিন, যা আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত। এর পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের এক রক্তাক্ত ইতিহাস, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই। আমেরিকা ও ইউরোপে একসময় পহেলা মে ছিল বসন্তের প্রথম দিন, যা ছিল আনন্দ এবং রঙিন ফুলের সুবাসে মুখরিত। কিন্তু সেই দিনের অর্থ বদলে যায় ১৮৮৬ সালে, যখন আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন। এটি ছিল এক কঠিন সংগ্রাম, যার ফলে অনেক শ্রমিককে জীবন দিতে হয়েছিল।

১৮৮১ সালে ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮৮৪ সালে ফেডারেশনের চতুর্থ সম্মেলনে শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানানো হয়, যা ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোতে বিশাল ধর্মঘটের রূপ নেয়। এই আন্দোলনে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক অংশ নেন। কিন্তু আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে অনেক শ্রমিক নিহত ও আহত হন। ৩ মে ম্যাককর্মিক হার্ভেস্টার কারখানায় শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ আবারও গুলি চালায়; এতে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। পরদিন, ৪ মে, হে মার্কেট স্কয়ারে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুলিশ আবারও গুলি চালায় এবং রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সেই স্থান।

শিকাগোর এই রক্তাক্ত ইতিহাস কেবল আমেরিকাতে নয়, বরং সারা বিশ্বে শ্রমিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে এই আন্দোলনের দিনটিকে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই দিনটিকে সব শ্রমিক সংগঠনের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

মে দিবস শুধু একটি কর্মসূচি বা ছুটির দিন নয়; এটি শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ১৮৮৬ সালে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকরা প্রথমবারের মতো দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি তুলেছিলেন। সেদিনের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলস্বরূপ, আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে দিবস পালন করা হয়, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক অমর স্মারক।

বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। ১৯২৩ সাল থেকে ভারতেও এই দিনটি পালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০টি দেশে মে দিবস বা শ্রমিক দিবস সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি নিয়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ভারতে মে দিবস পালন শুরু হয় ১৯২৩ সালে। ভারতের শ্রমিক সংগঠনগুলো, বিশেষ করে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য, এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক আদায় এবং সামান্য পারিশ্রমিকের শোষণ থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। মে দিবস তাদের সেই সংগ্রামের প্রতীক, যেখান থেকে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম হয়।

মে দিবসের ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, শুধুমাত্র শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, তাদের শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেওয়া সমাজের নৈতিকতা ও সমতার জন্য অপরিহার্য। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের মাঝে সহানুভূতি, শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠন সম্ভব। এ দিনটি শ্রমিকদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি অবিচল সমর্থনের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

অতএব, মে দিবস কেবল একটি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, এটি একটি সংগ্রাম, একত্রিত হয়ে অধিকার আদায়ের এক অমূল্য শিক্ষা। শ্রমিকরা তাদের শ্রমের মূল্য পেয়েছেন, কিন্তু এই সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববাসী উপলব্ধি করেছে যে, সমতা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক,
সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ গণপাঠাগার।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102