বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে জোর ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সুনামগঞ্জে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরতে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত

শ্রমিক দিবসের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ☞ শেখ একেএম জাকারিয়া

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
৪৩০

✪ শেখ একেএম জাকারিয়া

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের জন্য পহেলা মে একটি স্মরণীয় দিন, যা আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত। এর পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের এক রক্তাক্ত ইতিহাস, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই। আমেরিকা ও ইউরোপে একসময় পহেলা মে ছিল বসন্তের প্রথম দিন, যা ছিল আনন্দ এবং রঙিন ফুলের সুবাসে মুখরিত। কিন্তু সেই দিনের অর্থ বদলে যায় ১৮৮৬ সালে, যখন আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন। এটি ছিল এক কঠিন সংগ্রাম, যার ফলে অনেক শ্রমিককে জীবন দিতে হয়েছিল।

১৮৮১ সালে ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮৮৪ সালে ফেডারেশনের চতুর্থ সম্মেলনে শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানানো হয়, যা ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোতে বিশাল ধর্মঘটের রূপ নেয়। এই আন্দোলনে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক অংশ নেন। কিন্তু আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে অনেক শ্রমিক নিহত ও আহত হন। ৩ মে ম্যাককর্মিক হার্ভেস্টার কারখানায় শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ আবারও গুলি চালায়; এতে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। পরদিন, ৪ মে, হে মার্কেট স্কয়ারে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুলিশ আবারও গুলি চালায় এবং রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সেই স্থান।

শিকাগোর এই রক্তাক্ত ইতিহাস কেবল আমেরিকাতে নয়, বরং সারা বিশ্বে শ্রমিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে এই আন্দোলনের দিনটিকে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই দিনটিকে সব শ্রমিক সংগঠনের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

মে দিবস শুধু একটি কর্মসূচি বা ছুটির দিন নয়; এটি শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ১৮৮৬ সালে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকরা প্রথমবারের মতো দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি তুলেছিলেন। সেদিনের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলস্বরূপ, আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে দিবস পালন করা হয়, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক অমর স্মারক।

বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। ১৯২৩ সাল থেকে ভারতেও এই দিনটি পালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০টি দেশে মে দিবস বা শ্রমিক দিবস সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি নিয়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ভারতে মে দিবস পালন শুরু হয় ১৯২৩ সালে। ভারতের শ্রমিক সংগঠনগুলো, বিশেষ করে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য, এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক আদায় এবং সামান্য পারিশ্রমিকের শোষণ থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। মে দিবস তাদের সেই সংগ্রামের প্রতীক, যেখান থেকে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম হয়।

মে দিবসের ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, শুধুমাত্র শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, তাদের শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেওয়া সমাজের নৈতিকতা ও সমতার জন্য অপরিহার্য। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের মাঝে সহানুভূতি, শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠন সম্ভব। এ দিনটি শ্রমিকদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি অবিচল সমর্থনের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

অতএব, মে দিবস কেবল একটি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, এটি একটি সংগ্রাম, একত্রিত হয়ে অধিকার আদায়ের এক অমূল্য শিক্ষা। শ্রমিকরা তাদের শ্রমের মূল্য পেয়েছেন, কিন্তু এই সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববাসী উপলব্ধি করেছে যে, সমতা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক,
সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ গণপাঠাগার।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102