
আশ্রাফুল আলম মোঃ নুরুল হুদা
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়,তাহিরপুর
সুনামগঞ্জ।
প্রকৃতির ঘূর্ণায়নে অমানিশাকে জয় করে সুবহে সাদিক আসে। চলন্ত স্হায়ী নিশ্চুপ আপোষহীন এক ক্যালেন্ডারেই প্রকৃতি সারাক্ষণ মেহমান হয়ে ঘুরছে।।যার কোন ব্যত্যয় অতীতে যেমন নেই বর্তমানেও নেই। ভবিষ্যতেও এমনটাই হবে ধারণা এমনই।
এতে কত বিরহ-বেদনা,বিয়োগ-বিচ্ছেদ,মান-অভিমান,
আনন্দ-উল্লাস নামে চকচকে নতুন কাগজে কত ইতিহাস জাতির সামনে আসছে।
যা ভূ-উপরিভাগের জনগোষ্ঠী যে যার মত হজম করছে।
সুবহে সাদিক মানে ভোরের প্রসববেদনা। ঠান্ডা বাতাস,মহল্লার মসজিদে মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজান,ধর্মচর্চায় কিছুসংখ্যক মানুষ মসজিদমুখী,প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের ভিন্নভাষা ভিন্ন আওয়াজে ভোরকে স্বাগত জানাতে পাখিদের কিচিরমিচির এক অসাধারণ মুহুর্ত।
সকল আয়োজন শেষে বার্তা একটাই ভূর হয়েছে। পূর্বগগণে লাল রক্তিম আলোকরশ্মির উদয়। ক্রমান্বয়ে, ঘুমন্ত সকল জনগোষ্ঠী ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই বের হওয়ার রুটিন ফলো করতে ব্যস্ত। কর্মক্ষেত্র সকলের সমান নয়। যে যেখানে সে সেখানেই তার কর্মসম্পাদন করে। এতে করে সকাল এমন একটা শক্তিশালী সময় যা প্রতিটা মানুষকে প্রস্তুতির যুদ্ধে নামিয়ে দেয়।
কর্ম কী এর সঠিক ব্যাখ্যা জানলে সুবিধা হয়।
সহজ বাংলায় কর্ম মানে কাজ। আর কর্মের ছোট ব্যাখ্যা বলতে আমরা বুঝি দুনিয়ায় মানুষ তার পরিবার,পরিজন নিয়ে তার স্বপ্নের ভবিষ্যৎ লড়াইয়ে ঠিকে থাকতে দৈনন্দিন যে কার্য সম্পাদন করে তার নামই কর্ম।
হয়তো কারো কর্ম ছোট আর কারো কর্ম বড়। যোগ্যতার বিচারেই ক্ষেত্র তৈরী হয়। প্রয়োজনেই
রুটিন ওয়ার্ক ভিন্নভাবেই পরিচালিত। এক হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কেউ নামাজ আাদায়, ধর্মগ্রন্হ তেলাওয়াত, রাষ্ট্রের খবর শুনা,
গোছল, নাস্তা বা খবার শেষে কর্মে রওয়ানা।
আবার অন্য কেউ বিছানায় সিগারেটে সখ্যতা করে বিগত কাজ বা দিনের গল্প বলে সময় নেয়।
এটাও একটা রুটিন। যে যার মত সময় নিয়ে কর্মে রওয়ানা হয়। একসময় ছিল গ্রাম থেকে গ্রামে বা কাছাকাছি নিকটেই নিজ আনন্দেই দায়িত্ব আদায়ে হেঁটে গমনাগমন। কিন্তু এখন সময়, পরিবেশ, ও সংস্কৃতির উন্নতির ফলে মানুষের জীবনমান পরিবর্তন হয়েছে। এতে রাস্তাঘাটের উন্নতিই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ইচ্ছা থাকলেও আগের মত হাঁটা এখন আর নেই। হাঁটা প্রায় বিলুপ্তির পথেই। সবদিকেই রাস্তা। হউক ভাল,হউক মন্দ। মানুষ মোটেও হাঁটার পক্ষে নয়। শরীরের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুও হাটতে অনেকের ইচ্ছে নেই। আর রাস্হার বিবেচনায় কিছু সময় নিয়ে হলেও শহরে মোটামুটি বাহন পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামে নানা পরিবেশে নানা সংকট তৈরী হয়।
তেল ও গ্যাসের সংকটঃ মোটর বাইক সিএনজি,লাইটেস,বাস,প্রাইভেট কার সহ মালবাহী অনেক গাড়ীর প্রধান খাদ্য।
আর বিদ্যুতের সংকটঃ অটোবাইক তিনচাকা যা চার্জে চালিত। গ্রামের বিদ্যুত গরীব বাড়ীর বড়লোক মেহমানের মত। যখন আসে তখন ভাগ্যের সংবর্ধনার মত। সে শহরের কাজেই বেশী কর্মব্যস্হ থাকে।
কিন্তু গ্রামে পারফেক্ট রাস্হা যেমন খুবই কম, তেমনি পারফেক্ট বাহনও কম। আর চালকতো নানা কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ।
কর্ম সম্পাদনে সবাইকে সঠিক সময় কর্মস্হলে পৌঁছাতে হয়। পৌঁছাতে সকলেই যার যার রাস্হায় বা পয়েন্টে বাহনের অপেক্ষায় অপেক্ষমান। ঋতুভেদে আবহাওয়ার ভিন্নতায় রাস্হার যোগ্যতা অনেক ওঠা-নামা করে। যা গ্রামের ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকির সংকেত দেয়।
যাত্রীরা সকলেই যার যার কাজ নিয়ে আগে-পিছে বাহনে ওঠে।
যাত্রী তার নিজ কর্ম, কর্মস্হল,সময়, অফিস, ও দূরত্বের প্রশ্নে বাহনের ধারণক্ষমতা, ফিটনেস,চালকের অবস্থা কোনকিছুই মুল্যায়ন করার সময় নেই।
অন্যদিকে চালক তার বাইকের ধারণক্ষমতা, গ্যাস,চার্জের লক্ষ্যমাত্রা কোনটাই সমন্বয়ে নেই।
আবার যাত্রী যতদ্রুত সম্ভব কর্মস্থলে পৌছা চাই।
অপরদিকে চালক যতদ্রুত সম্ভব আরেকটা টিপ চাই। যাত্রী আর চালকের সুবিধার কম্পিটিশনে বাহন অনেক সময় অনেক কারণে লক্ষ্যচ্যুত হয়।
ফলে ইদানিং অতি অনাকাংখিত দূর্ঘটনা ফেইসবুক, পত্রিকা, ও মসজিদের মাইকে বেশ উচ্চারিত। আমরা আমাদের নিজস্ব স্হীরতা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা সময় বাঁচাতে নিজেকে অস্হির করে তুলছি। বাইক বা চালক কোন অবস্থায় আছে তা একবারো পরখ করিনা।
আর চালক বেশী উপার্জনে সে তার ডানবাম রাস্হার উঁচু নিচু কোন কিছুই দেখার সুযোগ নেই। এ যেন মৃত্যুর পাগলামি দৌড়। সামান্য ভুল,অসাবধানতা,তাড়াহুড়ো, অনেক সুন্দর সুন্দর জীবন সমাজ থেকে মাটির নীচে বাসস্থান করতেছে। যারা হারাইতেছ তারা মর্মে মর্মে পীড়ার সাথে হাড় কাঁপাইতেছে।
এমন অস্বাভাবিক অহরহ দূর্ঘটনা এড়াতে যাত্রী ও চালক উভয়কেই সাবধান ও সতর্ক হওয়া খুবই প্রয়োজন।
এতে দূর্ঘটনা এড়াতে যাত্রী, চালক ও দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট আমার কিছু পরামর্শঃ
১/ যাত্রীকে বাহনে ওঠায় অবশ্যই তাড়াহুড়ো করা যাবেনা।
২/যাত্রীকে বাহনের ধারণক্ষমতা ফলো করতে হবে।
৩/ বাহনের ফিটনেস সঠিক কি-না জানতে হবে।
৪/চালক সকলদিকেই পরিণত কি-না জানতে হবে।
৫/ চালক মূলতঃ মোবাইল আসক্ত কি-না তা জানতে হবে।
৬/ চালকের মস্তিষ্ক নেশা ও অসুস্হ কি-না তা জানতে হবে।
৭/ সর্বোপরি আল্লাহর /স্রষ্টার নাম স্মরণ করতে হবে।
চালকের
১/ বাইক বাহির করার আগেই বাইকের ফিটনেস চেক করতে হবে।
২/বাইকে প্রয়োজণীয় গ্যাস ও চার্জ আছে কি- না চেক করতে হবে।
৩/বাইকের ধারণক্ষমতার বাহিরে যাত্রী উঠছে কি-না বাইক ছাড়ার আগে চেক দিতে হবে।
৪/ বাইকে নিয়োজিত সকল ম্যানপাওয়ার আছে কি-না জানতে হবে।
৫/ যাত্রীরা নেশাগ্রস্ত ও নির্ঘুম কি-না তা খেয়াল রাখতে হবে।
৬/ বাইক ছাড়ার সময় ঠান্ডা মাথায় রাস্হার কন্ডিশন দেখে উগ্রতা বাদে সামনে এগুতে হবে।
৭/বাইকের প্রয়োজনীয় সকল কাগজ সাথে রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের
১/চালকের দক্ষতার পাশাপাশি চালনার নির্ভেজাল লাইসেন্স আছে কি-না।
২/ চালকের রউডে চালাতে বয়সের একটা স্ট্যান্ডার্ড থাকা দরকার।
৩/চালক আসলেই শারীরিক ও মানষিক ভাবে সুস্হ কি-না।
৪/চালক সত্যিকারার্থে নেশাপণ্যের সাথে মিতালী আছে কি-না।
৫/গাড়ী চালনার মুহূর্তে মোবাইলে আলাপচারিতায় মগ্ন কি-না।
৬/ চালক যাত্রী বা নিজস্ব কোন লোকের সাথে অযাচিত বাজে আলাপ বা তর্কে লিপ্ত কি-না।
৭/গাড়ি ওপেন করার আগেই গাড়ির প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামাদী সঠিকভাবে পরীক্ষিত কি-না।
ব্যক্তিগত মালিকানায় গাড়ী চালক
বাবার নিজস্ব অর্থের বড়াই, পারিবারিক দম্ভ,সামাজিক প্রতিপত্তিতে উঠতি বয়সের (বয়ঃসন্ধি) ছেলেদের বেপরোয়া চালনায় রাস্হার স্বাভাবিক চালকেরা অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিপাকে পড়েন।
অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সাবধানতার কোন বিকল্প নেই।
কারণ গড়ীতে যেসমস্ত যাত্রী প্যাকেট হয়েছেন তারা কেউবা পরিবার,সমাজ,এলাকা রাষ্ট্র (ক্ষেত্রমত)কোন কোন জায়গার জন্য বিশেষ বড় সম্পদ। হারিয়ে গেলে কমপক্ষে পরিবার একটা বিরাট শূণ্যতার মুখোমুখি হবে। যা কোন সমাজের জন্যই কাম্য নয়।
কিন্তু এখন রাত পোহালে চোখ খুললে,পত্রিকার পাতায় থাকালে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ডুকামাত্রই শুধু দুঃসংবাদ অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা গাড়ি আর গাড়ী এক্সিডেন্ট।
এক্ষেত্রে শুধু শহরেই ট্রাফিক ব্যবস্হা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়।গ্রামীণ এলাকায় রাস্হার পয়েন্টে পয়েন্টে এমনকি জনবহুল জায়গায় দক্ষ ট্রাফিক কার্যকরভাবে নিয়োগ করতে হবে।
প্রতিটা গাড়ী ওপেন করার আগে তার সার্বিক ফিটনেস,চালকের মনস্তাত্ত্বিক অবস্হা, সময়ের ব্যবহার, রাস্হার সঠিক লকেশান ও যাত্রী ও চালকের নিরব কোন অপকৌশল আছে কি-না তা সঠিকভাবে প্রশাসনের নজরে আসলে হয়তোবা চালক ও যাত্রী সকলেই মোটামুটি নিরাপদ হতে পারে।
তারপরেও মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকল ধরনের বিপদ থেকে হেফাজতে রাখুন এ প্রত্যাশাই করি।