
◑মারজান আহমদ জামান
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির মতোই বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। দুবাই, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেকেই সময়মতো কাজ করতে পারছেন না, অনেক ক্ষেত্রে বেতনও নিয়মিত পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লাখো প্রবাসী শ্রমিক নিজেদের পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে কঠোর পরিশ্রম করে বিদেশে উপার্জন করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের অনেকেই আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারগুলোর ওপর।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য পরিবার এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জীবনযাপন ও ছোটখাটো ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের ওপরই অনেক পরিবারের আর্থিক স্থিতি নির্ভরশীল। কিন্তু যখন প্রবাস থেকে অর্থ আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন এসব পরিবার চরম দুশ্চিন্তা ও চাপের মধ্যে পড়ে যায়।
এরই মধ্যে সামনে পবিত্র ঈদ। এই সময়টিতে প্রতিটি পরিবারই চায় আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার ঋণের কিস্তির চাপ, সংসারের খরচ এবং প্রবাসী স্বজনদের অনিশ্চিত অবস্থার কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এমতাবস্থায় মানবিক ও বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ হতে পারে—সরকার যদি ঈদের আগে অন্তত এক মাসের জন্য সব ধরনের এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এতে প্রবাসী পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার জন্য সময় পাবে।
সরকার অতীতেও বিভিন্ন সংকটকালে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এমন মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্রবাসী আয়নির্ভর অসংখ্য পরিবারের কথা বিবেচনা করে যদি সাময়িকভাবে ঋণের কিস্তি স্থগিত করা হয়, তবে তা হবে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব উদ্যোগ।
আজ প্রয়োজন এই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে যদি সম্মিলিতভাবে এই দাবি উত্থাপিত হয়, তবে আশা করা যায় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁদের কষ্ট ও সংকটের সময়ে পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ঈদের আগে এক মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিত করা হলে তা প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে এবং তাদের মনোবলও বাড়াবে।
লেখক: কবি ও সংগঠক