মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জের বাদাঘাট বাজারে মেইকার পরিবারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন মামলাবাজ ঘুষখোরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন। সুনামগঞ্জে বজ্রপাতের তাণ্ডব: ২ জনের মৃত্যু, শান্তিগঞ্জে আহত ৩ শান্তিগঞ্জে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে এম এ মান্নান প্রাথমিক মেধা বৃত্তির পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব: এমপি কয়ছর আহমদ একদিনের দাওরাই সফর রাজাপুর-কাঠালিয়ার রাজনীতির অগ্নিপুরুষ: রাজপথ থেকে গণমানুষের হৃদয়ে হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা নকলায় ১০৪৯৭ পরিবারের মাঝে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি সুনামগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

কথা,কাজ ও সমালোচনা ☞ আশ্রাফুল আলম মোঃ নুরুল হুদা

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে
১৪৩

☞ আশ্রাফুল আলম মোঃ নুরুল হুদা

মানুষ সৃষ্টির সেরা।জন্মগত ভাবেই তারকাচিহ্নিত পদবী। আশরাফুল মাখলুকাত।জাগতিক জীবনে মানুষকে চলতে হয়।চলতে গিয়ে বয়স হিসাবের ক্ষেত্রের পরিধি কারো ছোট আবার কারো বড়। পরিবার,সমাজ তথা এলাকা ও রাষ্ট্রের কাজ চালনায় ভাব আদান প্রদানের প্রধান বাহন ভাষা বা কথা।
আমরা দৈনন্দিন আলাপচারিতায় সকলেই কথা ব্যবহারে বাধ্য।
কিন্তু কথা কী?
আমরা সকলেই সৃষ্টির সেরা মানুষ। এ কথা চিরন্তন সত্য। এতে বিন্দুমাত্র ও সন্দেহ নাই। আমাদের সম্মান স্বয়ং আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন।
কিন্তু এ সম্মান রক্ষায় আমরা কেউ সফলকাম আবার কেউ ব্যর্থ।
এর মুল শক্তি হচ্ছে কথা।
কারো কথায় শক্তি বেশী আর কারো কথায় শক্তি কম। কারণ বুদ্ধিমানরা কথা বলার আগে সময়,পরিস্থিতি, চাহিদা ও বিষয় বিবেচনা করে কথা বলে।
পাশাপাশি কথাকে সচরাচর কথায় না ভেবে স্বল্প কথায় সত্য,সুন্দর, ন্যায়, বিষয়ভিত্তিক ও গঠনমূলক যৌক্তিক পয়েন্ট উপস্থাপন করে।
যে কারণেই কেউ কথা বললে মানুষ নিজ দায়িত্বে চুপ করে শুধু শুনেই না তা আমল করার জন্য ব্যাকুল থাকে। নিজ বাসা বাড়িতে বা এলাকায়ও এর শিক্ষণীয় চর্চা হয়। এ জন্য শর্ত থাকে ব্যক্তিকে নিজ কথার উপর অটল থাকতে হয়।
এমন কথার মালিকেরাই জীবনে চূড়ান্ত কামিয়াব।
আর একই কথায় যারা এই কতগুলো চেনা শব্দের সাথে মিল না রেখে সাংঘর্ষিক সিচুয়েশনে যায়,জীবন চলায় সব পজিশনেই তাদের কথাগুলো পরাজিত হয়।
কথার সাথে একান্ত পরিপূরক চেনা শব্দ কাজ। কথা বলা বা কথা শুনে বসে থাকাই ব্যক্তির শেষ সীমানা নয়। তাকে গন্তব্য বা চিন্তার প্রতিফলন করতে হলে কথার সাথে কাজের সঠিক সমন্বয় করতে হবে। পরিবার,সমাজ,এলাকা তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন তার বা তাদের দ্বারাই সম্ভব যাদের কথা ও কাজের সঠিক ও সময়োপযোগী সমন্বয় আছে।
এ ক্ষেত্রে যাদের ব্যত্বয় ঘটে তারা সকল প্লাটফর্মেই স্রষ্টার দেয়া তারকাচিহ্নিত পদবীর সম্মান রাখতে ব্যর্থ হয়।
সমালোচনা হলো কারো কথা বা কাজের পর্যালোচনা করা। এর অনেক ভালো ও মন্দ  দিক রয়েছে।
ভালো হলো কারো কথা ও কাজের উদ্দেশ্যমূলক ছিদ্রান্বেশন না করে তাঁর কথা ও কাজের উন্নতিকল্পে সময় ও ক্ষেত্রমত নিরবে তার একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা। এটা অসম্ভব উপকারী। এটার পজেটিভ শক্তি অনেক বেশি। এমন সমালোচক একান্ত আপনজনের চেয়েও অনেক উপকারী ও শক্তিশালী। যে কাজটার জন্য সমাজের প্রতিটা সুশীল মানুষ চাতক পাখির মত অপেক্ষায় থাকে।
আর সমালোচনার মন্দ দিক হলো কারো কথা ও কাজের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝে না শুনে নিজের ইচ্ছামতো বিষয়ের অপব্যাখ্যা করা।অনেক ক্ষেত্রে যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা রহস্যময়।
এতে সমাজে তৈরি হয় বিভেদ, দূরত্ব, সন্দেহ, পারস্পরিক হিংসা,ঝগড়া, মারামারি এমনকি হত্যার মতো নৃশংসতা।
যা মোটেও কাম্য নয়।
ফিডব্যাক দেওয়া বা করার সময় যে যতো সতর্কতা অবলম্বন করে, সে ততই কামিয়াব।
আর অসুন্দর ও অগঠনমূলক সমালোচনায় বুদ্ধিমান,সুশীল ও জ্ঞানীরা নীরবে ধৈর্য্য ধারণ করে।
ফলে সময়ের ব্যবধানে তাঁরা এর সঠিক ও উত্তম ফলাফল লাভ করেন।
এ কারণে যুগ থেকে যুগান্তরে কাল থেকে কালান্তরে সবসময়ই সমালোচনা ছিল,আছে এবং আগামীতেও থাকবে।
তবে গঠনমূলক সমালোচনা সকল মহলেই চির আকাংকিত ও চির কল্যাণকর।
আর অযাচিত,অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগঠনমূলক সমালোচনা সকল যুগ ও কালেই সকলের কাছে চির ঘৃণা ও নিন্দার বিষয়।
তাই আসুন,নিন্দনীয় এ সকল আচরণ মুখে নয়, অন্তর থেকে চির বিদায় দেওয়ার শপথ নিয়ে পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আমরা সকলেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কথা, কাজ ও সমালোচনায় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
আল্লাহর কাছে আমাদের সকলক ব্যাপারে সাহায্য ও দয়ার ভিক্ষা চাই।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ 

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102