
সামজাদ জসি,ব্যুরো চিফ:
ভৌগোলিক দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে নাগরিক সেবা সহজতর করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ৬টি গ্রাম নিয়ে নতুন **‘বরিশল ইউনিয়ন’** গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে ইউনিয়নটিকে সদর উপজেলা থেকে বিযুক্ত করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বরিশল ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল **গণশুনানিতে** স্থানীয় হাজারো মানুষ তাদের এই প্রাণের দাবি তুলে ধরেন।
জনদাবির যৌক্তিকতা: ‘আমাদের সদরে যেতে ১ ঘণ্টা, আখাউড়ায় যেতে ২ মিনিট সময় লাগে প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলো হলো— **বরিশল, বৈষ্ণবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর ও চান্দি**। বর্তমানে এই গ্রামগুলো সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন বলেন:
“আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র আখাউড়া। এখান থেকে আখাউড়া যেতে সময় লাগে মাত্র ২-৩ মিনিট, অথচ জেলা সদরে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। এই ভৌগোলিক বিড়ম্বনার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও গণশুনানি এই দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন তদন্ত ও গণশুনানির উদ্যোগ নেয়। গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক **মো. আবু সাঈদ** স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন: আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। যোগাযোগের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যারা নতুন এই ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী **কবীর আহমেদ ভুইয়া**। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত এই নেতা মুঠোফোনে জানান, এই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আখাউড়াকেন্দ্রিক। প্রশাসনিক জটিলতায় মানুষের ভোগান্তি দূর করতেই তিনি এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন।
বর্তমানে বাসুদেব ইউনিয়নে মোট ১৬টি গ্রাম রয়েছে। প্রস্তাবিত ৬টি গ্রাম আলাদা হয়ে গেলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া জনস্বার্থে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল কিংবা কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নকেও আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করার একটি সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়ন হলে জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে।