বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে জোর ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সুনামগঞ্জে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরতে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত

বিড়াল চরিত্রে বাঘের গর্জন:: রেজাউল করিম কাপ্তান

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে
২৭৪

রেজাউল করিম কাপ্তান

সমাজে চলতে গিয়ে অনেক সাধুদের সাথে দেখা হয়, দেখা হবে।তাদের আচার-ব্যবহার, মিষ্টি কথা শুনে মনে হবে সাধুরা যেন এ সমাজের এক অনন্য উদাহরণ। আপাত দৃষ্টিতে দেখা সব সাধুদের দেখে মনে হবে ইশ! যদি সাধু হতে পারতাম। যদি তাদের মতো জীবনটাকে গঠন করতে পারতাম। তাদের সাথে চলতে চলতে যখন, তাদের প্রকৃত রূপ দেখতে পাবেন,তখন সাধু হওয়ার স্বাদ নিমিষেই মাটি হয়ে যাবে। কারণ লেবাসধারী সাধুদের কাছে আছে অর্থলোপাটের ধান্দা, বংশীয় দাপট, নারী কেলেঙ্কারি ও  আমানতদারীত্বে চরম খেলাপ। বিরোধ মীমাংসায় তৃতীয় পক্ষের অবস্থানে থেকে টাকা খেয়ে একপক্ষীয় অবস্থান। ওরা নিজ স্বার্থ আদায়ে খুবই চতুর। তখনই আপনি থমকে যাবেন।
ভাবনায় পড়ে যাবেন আসলেই কি ওরা সাধু? নাকি সাধু সংজ্ঞা জানায় আপনার ভুল হয়েছে কোথাও।তারপর গুগলে গিয়ে সার্চ দিয়ে সাধু কাকে বলে সংজ্ঞা জেনে আসলেন। তারপর দেখলেন সংজ্ঞা ঠিক আছে, কিন্তু সংজ্ঞায়িত রূপের সাধু নামধারী মানুষগুলো লেবাসে সাধু আচরণে বড়ই অদ্ভুত। ওরা সাধুর প্রলেপে একেকজন একেকটা হিংস্র দানব। এ সমাজে সাধুবেশী হিংস্র দানবের অভাব নেই।ওরা সুযোগের অভাবের সাধু বা রক্ষক,সুযোগ পেলেই নিমকহারাম ভক্ষক। সাধুদের খোঁজ নিয়ে গিয়ে দেখুন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওদের ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব,স্বামী-স্ত্রী কলহ, পিতা পুত্রে মতের অমিল, বোনদের সাথে বিরাট দূরত্ব, প্রতিবেশীদের সাথে সাংঘর্ষিক সম্পর্ক। ওদের এক একটা পরিবার জলন্ত নরকাগ্নি। অথচ ওরাই পরিবারের বাইরে এসে এই দ্বন্দ্বগুলো মিটানোর প্রতিনিয়ত কাজ করে সাধু বেশে। কারণ ওরা লেবাসের সাধু। প্রকৃত মননের বা মগজের নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদেরকে সাধু হিসেবে চিনে।কেননা বরাবর পরিবারের বাইরে এসে সাধুত্ব প্রকাশে তারা মগ্ন। তারা এই সমাজ সংস্কারের ধারক ও  বাহক অথচ উচিত ছিল সাধুদের পরিবার পরিচ্ছন্ন থাকা। পাশাপাশি অন্যান্য জায়গায় সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া। কিন্তু ওইখানে উনারা বড্ড বেশি অসহায়। একেকজন একেকটা বিড়াল, অথচ বাহিরে এক একটা হিংস্রবাঘ।কিন্তু মানুষও জানে অথবা জেনে যায় তাদের ভিতরের অবস্থা। কিন্তু সবাই সাহস করে মুখ খুলতে পারে না বিধায় এই অমানুষ রূপী দানবগুলো সাধু রূপে থেকে যায়। আদৌ কখনো ওরা সাধু নয়,সাধু হতে পারবেওনা। কারণ ওরা মানসিক বিকারগস্ত
সমাজের ক্ষতি সাধনকারী মানুষ রূপী হায়েনা। ওরা যেকোনো সময় তাদের নিজ স্বার্থ আদায়ে অথবা সমাজের দ্বন্দ্ব বাজিয়ে দিতে যে কোন রূপ ধারণ করতে পারে। কারণ ওদের একটা বহুরূপীর স্বভাব আছে। এতগুলো বহুরূপী সাধুদের কথা। প্রকৃত সাধু যারা আছেন, সৎ মানুষ আছেন, তারা নিজে শুদ্ধতম জায়গায় অবস্থান করেন এবং প্রতিনিয়ত চিন্তা করেন এই সমাজটা কিভাবে সংস্কার করা যায়, শুদ্ধতম অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায় এবং সমাজের অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ গুলোর জন্য কি কর্মমুখী উৎসবমুখর ভালো কিছু করা যায়। তাঁরা নিজেদের সমস্ত কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও সমাজের উদাহরণ হয়ে থাকতে চান। নিঃসন্দেহে এরকমটা যারা করেন তাঁরা এই সমাজের উদাহরণ তথা নতুন প্রজন্মের জন্য উৎসাহ, প্রেরণা, উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত, ও  অনুকরণীয় হয়ে উঠবেন হৃদয়ে হৃদয়ে। তাঁদের শেখানোর রাস্তা হবে নতুন প্রজন্মের এক আলোকিত রাস্তা।আর যারা সাধুদের সঠিক রাস্তা ধরে প্রেরণার বার্তা গুলোকে ধারণ করে নিজের জীবন পরিচালিত করবে,তারাই প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে এ সমাজ তথা দেশের। এ দেশটা কথায় নয়,লেবাসে নয়,সাধু হয়ে উঠুক হৃদয়ের পরিছন্নতা দিয়ে। এটাই কামনা আমাদের নতুন প্রজন্মের।

লেখক: বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক, সভাপতি,সমাজ সুরক্ষা ফাউন্ডেশন,নোয়াগাঁও 

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102