বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে জোর ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সুনামগঞ্জে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরতে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত

ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্যও চালু করা হোক মিড-ডে মিল

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর
  • সংবাদ প্রকাশ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে
২৬২

দেশের শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিক্ষায় মনোযোগ বাড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের মিড-ডে মিল কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ক্ষুধামুক্ত পরিবেশে শিশুরা যাতে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, এ উদ্যোগ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, একই দেশের একই বয়সী শিশু হওয়া সত্ত্বেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ও সংযুক্ত এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীরা এখনো মিড-ডে মিলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার পাঠ্যক্রম একই হওয়া সত্ত্বেও শুধু প্রতিষ্ঠানের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণে মাদ্রাসার শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৈষম্য থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। BANBEIS-এর  Bangladesh Education Statistics-২০২৩ অনুযায়ী দেশে দাখিল মাদরাসা ৬,৫১১টি, আলিম ১,৩৯৪টি, ফাজিল ১,০৮৪টি এবং কামিল ২৭০টি। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১,৫১৯টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে।

এসব মাদ্রাসার ইবতেদায়ী স্তর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রদান করা হয়। মাদ্রাসা সমূহে বিপুলসংখ্যক শিশু ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে মফস্বলের অনেক মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একটি শিশুর ক্ষুধা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং এমপিওভুক্ত সংযুক্ত মাদ্রাসার ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষার্থীদেরও সরকারি মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা অতিবজরুরি। নতুবা বৈষম্যের এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার ইবতেদায়ী স্তরে শিক্ষার্থী সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে এবং শিশুকাল থেকে ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ও প্রতিটি শিশুকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সকল শিশুদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তা-নাহলে স্বাভাবিক কারনেই মাদ্রাসা গুলোতে দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমবে। এমতাবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার, শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা গুলোতেও মিড-ডে মিল চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102