
শেরপুরের নকলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা-২০২৬ এ ফেল করা দিয়ামনি অন্তি (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরীক্ষায় ফেল করায় মনের দু:খে সে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে বলে সবাই মনে করছেন। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরবাছুরআলগী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দিয়ামনি স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়ার মেয়ে। সে চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। দুলাল মিয়ার ৩ মেয়ের মধ্যে দিয়ামনি সবার ছোট। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিয়ামনি অকৃতকার্য হয়। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে সবার ধারনা। তবে শুধুযে পরীক্ষায় ফেল করার কারনেই সে আত্মহত্যা করেছে এমন সুনিদৃষ্ট কোন তথ্য বা প্রমান পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিয়ামনি সোমবার রাতে তার বড়বোন শম্পার সাথে ঘুমাতে যায়। শম্পা ঘুমিয়ে পড়লে দিয়ামনি শয়নকক্ষের পাশের বারান্দার কক্ষে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। রাত ৪টার পরে শম্পা ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বিছানায় দিয়ামনিকে না পেয়ে পাশের বারান্দার কক্ষে গিয়ে তাঁকে ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দিয়ামনির মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রস্তুত করেন।
নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে রাত ৪টার মধ্যে দিয়ামনি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। এব্যাপারে নকলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।