
শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের মোজারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান স্যার-এঁর অবসর জনিত কারনে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
বক্তারা বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান স্যারের শিক্ষকতা জীবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকান্ডের উপর স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জানান, বিদায়ী স্যারের কর্মদক্ষতা, কাজের প্রতি শ্রদ্ধা, একাগ্রতা ও নিয়মানুবর্তিতাসহ শিক্ষার্থীর নৈতিকতার উন্নয়নসহ শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে বাস্তবায়িত কর্মকান্ড সমূহ বর্তমান ও ভবিষ্যতের শিক্ষকদের কর্মময় জীবনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মতো সৎ, আদর্শ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের শূণ্যতা পূরণ করা সহজ হবেনা বলেও জানান তাঁরা। তিনি সবার প্রিয় ও অনুকরনীয় শিক্ষক হিসেবে সকলের হৃদয়ে অমৃত্যু টিকে থাকবেন। যুগ যুগ ধরে সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বলেও আশাব্যক্ত করেন বক্তারা। আল্লাহ যেন তাঁর অবসর জীবন নিরাপদ ও সুখময় করে তুলেন এই দোয়া করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।
বিদায়ী আবু রায়হান স্যার তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেন। অবসর কালীন দিনগুলো যেন সুস্থতার সহিত অতিবাহিত করতে পারেন এরজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। তাছাড়া তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবার সুস্থতা ও সার্বিক উন্নতি কামনা করেন।
বিদায়ী স্যারের চাকরি কালীন সময়ে স্মরণীয় কর্মকান্ডের উপর স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা সভার পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে স্মৃতিস্বরূপ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলী, লাভলী বেগম, আছমাউল হোছনা ও জেসমিনসহ আবেগপ্রবন শিশু শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পরে সহকারী শিক্ষিকা আছমাউল হোছনা-এর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর পূর্বক অফিসিয়াল কাজকর্ম ও সকল নথিপত্র বুঝিয়ে দেন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সবার প্রিয় আবু রায়হান স্যার।
উল্লেখ্য, আবু রায়হান ১৯৯২ সালের ১১ নভেম্বর উপজেলার “মোজাকন্দা শাহ মুহাম্মদ আজিজুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এ প্রথম শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এর পরে সরকারের বদলি আদেশ মোতাবেক বড়ইতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। উভয় কর্মস্থলে অগণিত শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন, গড়ে দিয়েছেন শিশুদের শিক্ষার হাতেখড়ি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বসাধারণের মনজয় করেছেন, অর্জন করেছেন সুনাম। সবশেষে উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের “মুজারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” থেকে অবসর গ্রহন করলেন।