
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় চাপ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। তবে চাপ সামলাতে ও স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের জন্য ১৯৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭৫টি পদ শূন্য থাকায় ও ১০ জন অন্যত্র ডেপুটেশনে থাকায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৯ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে জনসেবার মানবৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ কিছুটা হলেও উন্নত হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি পুরাতন ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য মোট ২৭ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমানে উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ২৪টি। ফলশ্রুতিতে নিয়োগকৃত অতিরিক্ত তিনজন সিএইচসিপি শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে ডেপুটেশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অনুমোদিত পদের মধ্যে ২২টি চিকিৎসক পদ, ১টি নার্স, ২টি প্যারামেডিক, ৩৪টি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পদ ও ১৬টি চতুর্থ শ্রেণির পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৪ জন চিকিৎসক, ৪ জন নার্স, ২ জন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ডেপুটেশনে অন্য উপজেলায় আছেন।
তবে জনবল সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৯ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে চলতি মাসের শুরু থেকে ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সহায়ক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় অনেকে জানান, উপজেলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট নকলা হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে এবং নির্মান করা হয় নতুন নতুন ভবন। কিন্তু শয্যা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও শুরু থেকেই জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশের অভাবে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন উপজেলাবাসী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, পূর্বের চেয়ে নকলা হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। দায়িত্বে আসার পর তিনি জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সাধ্য মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘জনবল সংকট থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ও আনসার সদস্য নিয়োগের ফলে কিছুটা চাপ কমেছে এবং সেবার মান উন্নত হয়েছে। তবে অনুমোদিত শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব শূণ্য পদ পূরণ করা সম্ভব নাহলেও অন্তত শূণ্য থাকা চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণারয়ের কাছে প্রয়োজনীয় জনবল চাওয়া হয়েছে।’ জনস্বার্থে সমস্যা গুলোর অতিদ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন এবিষয়ে সুদৃষ্টি দিবেন। উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে এবং জনগনের স্বাস্থ্য সেবার দিক বিবেচনায় নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কিন্তু অন্যত্র ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনরায় নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং রোগীদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে। নিজের জন্মস্থান ও নির্বাচনী এলাকা বিবেচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন সর্বসাধারণ।