
বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড (World’s Largest International Abacus Olympiad)-এ দুইটি গোল্ড মেডেলসহ দ্রুততম গণিত সমাধানে বিশ্ব রেকর্ড করেছে শেরপুরের সাংবাদিক পুত্র ইয়াসীন তাফসির অভি। আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডের এই আসরে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মেধাবী এই শিশু শিক্ষার্থী।
খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডের প্রথম পর্বে জুনিয়র লেভেলে প্রথম পর্বে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ সাফল্যের পর ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করে। দুই পর্বের সাফল্যে অভি অর্জন করে দু’টি করে গোল্ড মেডেল, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। এই অসাম্য সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে তার দখলে আসে ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’; বিশ্বমানের শিক্ষা বিষয়ক এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিকে দেওয়া হয় ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ সম্মাননা সনদ।
ইয়াসীন তাফসির অভি ডিবিসি নিউজের ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ সাংবাদিক ইমরান হাসান রাব্বি ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অর্জনকে জেলার জন্যও বড় গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন অভির পরিবার ও তার শিক্ষকগনসহ শুভাকাঙ্খিরা।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের এডুকেশন পার্টনার ব্রেইন স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড। এতে অন্তত ১৪টি দেশের দেড় সহস্রাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভির বাবা ইমরান হাসান রাব্বি জানান, অভি অ্যাবাকাসে জুনিয়র লেভেল শেষ করে অ্যাডভান্স লেভেলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সে অ্যাবাকাসের পাশাপাশি স্পোকেন ইংলিশেও দক্ষতা প্রদর্শন করে আসছে। তিনি বলেন, ‘ছেলের এমন অর্জনের সংবাদ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত।’ ভবিষ্যতে এধরনের আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে যেন দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে এরজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন অভির বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন। অভি বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।