বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে জোর ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সুনামগঞ্জে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরতে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত

নারী শিক্ষায় নারী শিক্ষক: কওমি মাদ্রাসার প্রেক্ষাপট ও প্রাসঙ্গিকতা

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৪৮০ বার পড়া হয়েছে
৬৪৬

✪শাহ্ মো. সফিনূর

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জ্ঞান অর্জনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসায় নারী শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি নিরাপদ, মার্জিত এবং কার্যকর শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে নারী মাদ্রাসায় নারী শিক্ষিকার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।

✪ইসলামিক পরিবেশ ও নারী শিক্ষক

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা বা হিজাব বজায় রাখা অপরিহার্য। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নারী শিক্ষক থাকলে তারা অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে প্রশ্ন করতে পারে এবং তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ শিক্ষকের সামনে ছাত্রীরা কুণ্ঠাবোধ করে, যা তাদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যদি নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হয়, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে পালিত হয় এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও বেশি রুচিশীল হয়ে ওঠে।

✪দক্ষ নারী জনশক্তি ও বর্তমান চিত্র
বর্তমানে আমাদের দেশে কওমি শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক বিদুষী নারী ও দক্ষ নারী শিক্ষিকা রয়েছেন। দেশের অসংখ্য মহিলা মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ছাত্রী উচ্চশিক্ষা (দাওরায়ে হাদিস) সম্পন্ন করছেন। এই শিক্ষিত নারী সমাজকে যদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং নারী মাদ্রাসার ক্লাসগুলোতে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়, তবে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে।

✪একটি স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিতর্ক আমাদের নজরে আসে। এই ধরনের বিতর্ক বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। নারী মাদ্রাসার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসে নারী শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করানো হলে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা শূন্যে নেমে আসবে। এটি কেবল ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং অভিভাবক মহলে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতেও সহায়ক।

নারী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কলঙ্কমুক্ত রাখতে হলে নারী শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এবং প্রতিটি মহিলা মাদ্রাসায় নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে পাঠদান বাধ্যতামূলক করেন, তবে তা হবে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এতে করে আমাদের দেশের কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ হবে। সামাজিক মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুশাসন বজায় রেখে নারী শিক্ষার প্রসারে এটিই হোক আগামীর পথচলা।

লেখক- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,ইউএসএ বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102