
নিজস্ব প্রতিবেদক:সুনামগঞ্জে সিডস অব সাদাকা দাতা সংস্থার দেয়া সার্বজনীন ডিপ টিউবওয়েল হতে খাবার পানি সংগ্রহ করার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ইউপি সদস্যার পুত্র ও কন্যার উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় থানায় মামলার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে অভিযোগটি দায়ের করেছেন সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোছা: তানজিনা বেগম। অভিযোগে ইব্রাহিমপুর পশ্চিমপাড়া নিবাসী মৃত ময়না মিয়ার ৩ পুত্র যথাক্রমে দেলোয়ার হোসেন (৫২),সামছুল আলম (৫৫),জামাল হোসেন (৫০),সামছুল আলমের স্ত্রী শিউলি বেগম (৪০),জামাল হোসেনের স্ত্রী সুরমা বেগম (৩৮),সামছুল আলমের পুত্র মনির মিয়া (২৪),সামছুল আলমের কন্যা ঝুমা বেগম (২০),মৃত রজাক মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া (৩২),মানিক মিয়া (২৭) ও জামাল হোসেনের কন্যা খাদিজা বেগম (১৯) সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, পশ্চিম ইব্রাহিমপুর গ্রামে পানীয় জলের সুবিধার্থে বিদেশী এনজিও এর অর্থায়নে স্থানীয় ১০ পরিবারের পানীয় জলের সংকট নিরসনের লক্ষ্যে একটি ডীপ টিউবওয়েল দেলোয়ার হোসেনের বাড়ীতে স্থাপন করা হয়। ডীপ টিউবওয়েলটি স্থাপনের পর হতে ইউপি সদস্যাসহ প্রতিবেশী কয়েকটি পরিবার উক্ত টিউবওয়েল হতে পানীয় জল সংগ্রহ করেন। কিন্তু দেলোয়ারের ভাই সামছুল আলম ও তার স্ত্রী শিউলি বেগমসহ তাদের ৩টি পরিবার টিউবওয়েলটি তাদের ব্যক্তিগত পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। পাড়ার ছেলেমেয়েরা পানি আনতে গেলে দেলোয়ারের ৩টি পরিবার ও তাদের গোত্রীয় লোকজন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও নানানভাবে বিরক্ত করত:,পানি নিতে গেলে ভূক্তভোগী ইউপি সদস্যার মেয়ের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। গত ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় ইউপি সদস্যার কন্যা আনহা আনোয়ার টিউবওয়েলের পানি আনতে গেলে সামছুল আলম ও তার স্ত্রী শিউলি বেগম মেয়েটিকে পানি আনতে নিষেধ করে। তখন ইউপি সদস্যার ছেলে আপন আনোয়ার টিউবওয়েলটি তোমাদের নয় সার্বজনীন টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে তোমরা নিষেধ করতে পারনা বলায় দেলোয়ার ও তার ২ ভাইয়ের পরিবারবর্গরা আপনের সাথে তর্কে জড়িয়ে মনির ও জুয়েলকে সাথে নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে ইউপি সদস্যার বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে তার ছেলেকে আক্রমণ করত: এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে। অসহায় ইউপি সদস্যা ঘটনাটি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার লক্ষ্যে ১৮ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় আনন্দ বাজারে এক সালিশ বিচার ডাকেন। ইউপি সদস্যা গ্রাম্য সালিশীগনের নিকট বিচারপ্রার্থী হওয়ায় দেলোয়ার ও তার ভাইয়েরা আরো উত্তেজিত হয়ে সালিশ বিচারে না গিয়ে পরষ্পর শলা পরামর্শ করে বেআইনী জনতাবদ্ধে মিলিত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার সময় সুনামগঞ্জ সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আনহা আনোয়ারকে তাহার ছোট ভাইকে রাস্তা হতে ঘরে নেওয়ার পথে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে অন্যায়ভাবে আটক করে। তখন দেলোয়ারের হুকুমে সামছুল আলম তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আনহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে বারি মেরে মারাত্মক তালুফাটা জখম করে। এসময় মেয়েটি মাটিতে পড়ে গেলে সামছুল আলমের স্ত্রী শিউলি বেগম ও জামাল হোসেনের স্ত্রী সুরমা বেগম,মেয়েটিকে কিলঘুষি লাথি মেরে জখম করে। সন্ত্রাসীদের কবল থেকে বোনকে রক্ষার জন্য,সুনামগঞ্জ সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইউপি সদস্যার ছেলে আপন আনোয়ার এগিয়ে গেলে দেলোয়ারের হুকুমে তার ভাই জামাল হোসেন প্রাণে হত্যার লক্ষ্যে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বারি মেরে ছেলেটির ডান উরুতে মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা জখম করে। শোরগুল শুনে ছেলে মেয়েকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে দেলোয়ার ও তার বাহিনী এই বিষয়ে মামলা করলে ইউপি সদস্যাকে অবশ্যই প্রাণে হত্যা করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। শিউলি বেগম ইউপি সদস্যার মেয়ের গলায় থাকা আধভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং জামাল হোসেন ইউপি সদস্যার ছেলের হাত ঘড়ি জোরপূর্বক ছিনতাই করে নেয়। ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীরা জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাঃ মোঃ ইউসুফ আলী সরকারের তত্ত¡াবধানে চিকিৎসা নেয়। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন,আমি কেউরে মারছিনা ইতা বেটিনতে বেটিনতে মাইর করছে। আমি আমার ভাইয়ের জায়গায় টিউবওয়েল দিছি। আমি মানুষরে গত ২০ বছর ধরে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। ইউপি সদস্যা টিউবওয়েলের জন্য আমাকে কোন টাকা দেয়নি। আমি জামায়াতে ইসলাম করি। আমি তার কাছে এলাকার মেম্বার হিসেবে আমার দলের তহবিলের জন্য ৫ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছি। সে মাত্র ৩ হাজার টাকা দিছে। এখন বলতেছে এই টাকা তার ঘরে পাইভের লাইন দেয়ার জন্য দিছে। দান করে কোটা দেওয়ায় আমি তার টাকা ফেরত দিয়ে দেব। সে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিছে আমরাও তাকে ছাড়বনা। প্রতিবেশী আলীনূর মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,দেলোয়ার ধনেজনে বলিয়ান হয়ে গোত্রীয় প্রভাব দাপট খাটিয়ে প্রায় সময় প্রতিবেশীদের ঘরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা করে। আমার নিজের ঘরে তার হামলায় আমি নিজেও আহত হয়েছি কিন্তু বিচার পাইনি। পানি আনতে যাওয়া মহিলারা বলেন,দেলোয়ারের ৩ পরিবারের অত্যাচারে আমরা মহল্লাবাসী অতিষ্ঠ। ইতিপূর্বে তার ভাই সামসুল খুন করে পার পেয়েছে। এরা কখন যে কাকে খুন করে তা একমাত্র আল্লাহতায়ালাই জানেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম বলেন,ইউপি সদস্যা তার ছেলেমেয়ের উপর হামলা ও লুটতরাজের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। দাতা সংস্থার দানকৃত টিউবওয়েলের পানি নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরকম জগন্য হামলার ঘটনা অমানবিক কাজ। এ ব্যাপারে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।