
ডেস্ক নিউজ:
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং, লিটারেচার অ্যান্ড কালচারাল ফেস্টিভল ২০২৬’। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং হাউসের যৌথ আয়োজনে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ফাউন্ডেশন।
সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দেশ-বিদেশের লেখক, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, ভাষাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে ভাষা প্রশিক্ষণ, সাহিত্যচর্চা, ভাষার প্রসার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমদ।
বিশেষ আলোচক ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ভ্যালেরি অ্যান টেইলর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, সাবেক সচিব ও কবি অ্যাডভোকেট গরীব নেওয়াজ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনু।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক (উপসচিব) ড. অশোক কুমার বিশ্বাস। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালের কাঠমান্ডুর ইউএনএমএআই-এর পরিচালক তিলক জং খাঁড়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও প্রধান উপদেষ্টা এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলাদেশি কবি, লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু এবং বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল সরদার রাহাতসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর প্রতিনিধিদের বক্তব্য। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের নিবন্ধিত সারা দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারের আট বিভাগের নির্বাচিত আটজন প্রতিনিধি তাদের গ্রন্থাগারের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও দাবি তুলে ধরেন। এতে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও প্রাবন্ধিক শেখ একেএম জাকারিয়া।
সাংস্কৃতিক পর্বে শিশুদের নৃত্য, দেশাত্মবোধক ও ঐতিহ্যবাহী গান এবং আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বক্তৃতা পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট ছড়াকার আনতানূর হক, প্রিন্সিপাল তমিজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখম সিরাজুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, কবি মহসিন কবিরসহ অনেকে।
সম্মেলন উপলক্ষে লেখক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য ও জ্ঞানভিত্তিক বই প্রদর্শন করা হয়। লেখক, পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীরা এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বই ও সাহিত্য নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারী ও গুণীজনদের সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আয়োজকেরা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
দেশ-বিদেশের লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন দিনব্যাপী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।