
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এঁর পরামর্শক্রমে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আবু নাসের মোহাম্মদ এহছানুল হক মিলন (আ.ন.ম এহছানুল হক মিলন)-এঁর যুগান্তকারী সাহসী পদক্ষেপের কারনে শেরপুর জেলার অন্তত ৫১৪ মেধাবীর ভাগ্য পরিবর্তনের সুবাতাস বইছে। ৫১৪ জনের মধ্যে ৬৩ জন মেধাবী শিক্ষক ও ৪৫১ জন মেধাবী বেকার যুবক-যুবনারী অন্তর্ভূক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, শেরপুর জেলার সদর উপজেলাসহ ৫টি উপজেলার মোট ১৬৪টি এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বেশ কয়েকটি কলেজ রয়েছে। এসব স্কুল ও কলেজের ৬৩টি প্রশাসনকি (প্রধান ও সহকারী প্রধান এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ) পদ এবং ৪৫১টি সহকারী শিক্ষক/প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
একযুগে সারাদেশের ন্যায় শেরপুরের এসব শূন্য পদ পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহন করে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রশাসনিক পদ পূরনের লক্ষ্যে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহন শেষে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে ভাইভা পরীক্ষা গ্রহন শুরু হতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকা মোতাবেক জানা গেছে, শেরপুরের সদর উপজেলার স্কুল ও কলেজের মোট ১৭৬টি শূন্য পদের মধ্যে ১৯টি প্রশাসনিক পদ (৮টি প্রধান শিক্ষক, ৮টি সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ৩টি অধ্যক্ষ পদ) এবং বিভিন্ন বিষয়ের ১৫৭টি সহকারী শিক্ষক/প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের মোট ১১৩টি শূন্য পদের মধ্যে ১৫টি প্রশাসনিক পদ (৭টি প্রধান শিক্ষক, ৩টি সহকারী প্রধান শিক্ষক, ৩টি জুনিয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ১টি অধ্যক্ষ ও ১টি উপাধ্যক্ষ পদ) এবং বিভিন্ন বিষয়ের ৯৮টি সহকারী শিক্ষক/প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলার স্কুলের মোট ৮৭টি শূন্য পদের মধ্যে ১১টি প্রশাসনিক পদ (৮টি প্রধান শিক্ষক ও ৩টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ) এবং বিভিন্ন বিষয়ের ৭৬টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
নকলা উপজেলার স্কুলের মোট ৮২টি শূন্য পদের মধ্যে ১৪টি প্রশাসনিক পদ (৫টি প্রধান শিক্ষক ও ৯টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ) এবং বিভিন্ন বিষয়ের ৬৮টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার স্কুলের মোট ৫৬টি শূন্য পদের মধ্যে ৪টি প্রশাসনিক পদ (২টি প্রধান শিক্ষক ও ২টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ) এবং বিভিন্ন বিষয়ের ৫২টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
শেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসের ওয়েব সাইটের তথ্য মতে, শেরপুর সদর উপজেলাসহ জেলার মোট ৫টি উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের ১৮১টি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে; এরমধ্যে ১৬৪টি এমপিও ভুক্ত ও ১৭টি নন-এমপিও। ১০৩টি দাখিল স্তরের মাদ্রাসার মধ্যে ৮৭টি এমপিও ভুক্ত ও ১৬টি নন-এমপিও।
উল্লেখ্য, সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার ১৫১টি প্রধান-সহকারী প্রধানের শূন্য পদ পূরনের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন অনলাইনে আবেদন করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৮ হাজার ১৪৬ জন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল (শনিবার) পৃথক চারটি সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত, বেলা সাড়ে ১১টা (১১:৩০) থেকে সাড়ে ১২টা (১২:৩০) পর্যন্ত, দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এবং বিকেল সাড়ে ৪টা (৪:৩০) থেকে সাড়ে ৫টা (৫:৩০) পর্যন্ত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ২২ এপ্রিল পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশ করা হয়; এতে ১৪ হাজার ৯৪২ জন মেধাবী শিক্ষক উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তবে, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী একটি কুচক্রি মহলের বিভিন্ন চক্রান্তকে পিছনে ঠেলে তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা স্থানীয় কমিটির হাতে নাদিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এনটিআরসিএ-এর ব্যবস্থাপনায় ভাইভা পরীক্ষা শেষে মেধা তালিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে বলে সবাই মনে করছেন। এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শূন্য পদ পূরন করা হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এটি হবে ঐতিহাসিক তথা যুগান্তকারী সফলতা। এতে করে মেধাবীরা মেধার ভিত্তিতে শিক্ষকতা পেশায় আসার সুযোগ পাবেন এবং আগ্রহী হবেন। এছাড়া প্রশাসনিক পদে সৎ, দক্ষ, আদর্শ, নিষ্ঠাবান, কর্মপ্রিয় ও স্মার্ট শিক্ষকগন স্থান পাবেন। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার মানোন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। যা দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করছেন সবপেশা শ্রেণির জনগন।