
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নে নারী-পুরুষকে গৃহকর্মী ভিসাসহ বিভিন্ন ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, চুক্তি অনুযায়ী চাকরি না দেওয়া, বিদেশে গিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি এবং দেশে থাকা স্বজনদের বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী ও স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগ উঠেছে চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল পূর্ব বালিদাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, তার মেয়ে খালিদা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আহসান হাবিব সুমনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আদালত ও সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশে উচ্চ বেতন ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী-পুরুষদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ সেখানে গিয়ে নির্যাতন, আটকে রাখা এবং পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতে লিখিত অভিযোগ
চারিকাটা ইউনিয়নের সরুখেল পশ্চিম গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল নূর গত ১০ সেপ্টেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে আব্দুল মান্নান, তার মেয়ে খালিদা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং আহসান হাবিব সুমনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় আব্দুল নূরের ছেলে আব্দুর রহমানকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী তাকে নির্দিষ্ট বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগকারীর দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার পর আব্দুর রহমানকে চুক্তি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে আহসান হাবিব সুমনসহ কয়েকজন তাকে একটি ঘরে আটকে রাখেন এবং দেশে থাকা তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ইউপি সদস্যের ছেলেকেও বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ
একই অভিযোগে চারিকাটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাজির আলী মেম্বারের ছেলে মাহদিকুর রহমানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাহদিকুর রহমানকে সৌদি আরবে নেওয়ার পর কথা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সালিশ-বিচার হয়। পরে স্থানীয় এক প্রবাসীর সহযোগিতায় প্রায় তিন মাস পর তাকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনায় আরও কয়েকজন প্রবাসী ভুক্তভোগী হয়েছেন। তবে সামাজিক সম্মান, পারিবারিক মর্যাদা ও নানা কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি।
ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নারী ও পুরুষদের ব্যবহার করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলে সম্পর্ক তৈরি করা হয়। পরে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও চূড়ান্ত সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও প্রবাসীদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলাটি তদন্ত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ অভিযোগের ঘটনার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ নথি ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
মাসুক আহমদের অভিযোগ
চারিকাটা লালাখাল চা-বাগান সংলগ্ন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ধীরেন্দ্র দাসের ছেলে মাসুক আহমদ ধর্মান্তরিত হয়ে আব্দুল মান্নানের মেয়েকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে মাসুক আহমদের বোন শিপরা দাসকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এতে মাসুক আহমদ অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তার সঙ্গে পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাসুক আহমদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে তিনি ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর আব্দুল মান্নান, খালিদা বেগম ও আহসান হাবিব সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির মামলা নম্বর ২৮০/২০২৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল এইডে রুমানা বেগমের অভিযোগ
এ ছাড়া নয়াখেল পূর্ব গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল হকের মেয়ে রুমানা বেগম (৩৩) চলতি বছরের ২১ জুলাই সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আব্দুল মান্নান, তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মেয়ে খালিদা বেগমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
রুমানা বেগমের অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও কাবিননামা করা হয়নি। বিয়ের কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, জাহাঙ্গীর আলমের আগেও আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে খালিদা বেগমের সহযোগিতায় রু