
শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান পটেনশিয়াল সাসটেইনেবিলিটি (ডপস) নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ১১০ জন ডপস সদস্য শিক্ষার্থীকে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার শেরপুর জেলা শহরের গৌরিপুরে ডপস ক্যাডেট মেসে (ছাত্রাবাস) এ সহায়তা বিতরণ করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে ডপস ক্যাডেট মেসের সামনে ডপস সভাপতি সার্জেন্ট শহিদুর রহমান (অবঃ) এর সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও শেরপুর ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডপসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. শাহিন মিয়া বিএসপি, সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া সুলতানা ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিনিধি নালিতাবড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মান্নান সোহেল।
বক্তারা জানান, দারিদ্র্যতা শিক্ষা গ্রহনের কোনো বাধা হতে পারেনা। যেকোন উপায়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা গ্রহন করে ভালো মানুষ হয়ে সমাজ ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে আলোকিত মানুষ হয়ে নিশ্চয়ই আলোকিত সমাজ গড়ে তুলবে। তারা আরো জানান, জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে এবং আলোকিত জীবন গড়তে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই একটি সুন্দর এবং সুশিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ ও ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ প্রাপ্ত শিক্ষার মনোন্নয়ন বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডপস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সহযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত, ঝরে পড়া ও অসচ্ছল পরিবারের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী পুনরায় স্কুলগামী হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছেন। জুনিয়র মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা প্রদান ও তাদের মেধাকে বিকশিত করে উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়াই ডপস-এর মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডপস এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে। ডপস-এর পরামর্শ ও সহায়তা শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তারা মন্তব্য করেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ডপস সদস্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন।