শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নকলায় সাড়ে ১০ হাজার পরিবারের মাঝে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি নকলায় হেলথকেয়ার সেন্টারের পক্ষথেকে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন ঝিকরগাছায় বিজ্ঞান স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের হরিনগরে বাড়ির ছাঁদ থেকে গাঁজার গাছসহ ১ জন আটক প্রয়াত ধামাইল শিল্পী সৃষ্টি চৌধুরীর পুণ্যস্মরণে বৈষ্ণব সেবা, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও পদাবলী কীর্তন অনুষ্ঠিত শেরপুরে সংঘবদ্ধ হামলার স্বীকার সাইফ মারা গেছেন! বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরে আলোচনা ও পরিকল্পনা সভা হাওরকন্যা ইমার জয়যাত্রা: দেশের পতাকা বুকে নিয়ে একের পর এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে জেলার শ্রেষ্ঠ নকলার ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের প্রথম অধিবাসী: নেগ্রিটো ◑ শেখ একেএম জাকারিয়া

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০২ বার পড়া হয়েছে
৩৮৪

◑ শেখ একেএম জাকারিয়া

বাংলাদেশে প্রথম যে জাতিগোষ্ঠীর আগমন ঘটে, তারা হলো নেগ্রিটো। মূলত এই জনগোষ্ঠী আফ্রিকায় বসবাস করত এবং নিগ্রো জাতি নামে পরিচিত ছিল। ধারণা করা হয়, তারা আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া অঞ্চল থেকে আগত।
নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী সিনাই উপত্যকা অতিক্রম করে প্রথমে আরব উপদ্বীপে প্রবেশ করে। সেখান থেকে ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই পথ ধরেই তাদের একাংশ বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসতি গড়ে তোলে।
নৃতত্ত্ববিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৭৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ বছরের মধ্যে নেগ্রিটোরা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে এবং খ্রিস্টপূর্ব ৪০,০০০ থেকে ২০,০০০ সালের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে। ধারণা করা হয়, তাদের হাত ধরেই উপমহাদেশে প্রস্তর যুগের সূচনা ঘটে।
তাদের জীবনধারা ছিল অত্যন্ত আদিম। তারা কৃষিকাজ বা আগুন ব্যবহারের কৌশল জানত না। প্রধানত গুহাবাসী ছিল এবং বড় বড় গাছের নিচে দলবদ্ধভাবে বাস করত। তাদের প্রধান খাদ্য ছিল বন্য পশুপাখি ও ফলমূল। তাদের দেহগঠনও ছিল আলাদা ধরনের। গায়ের রং ছিল কুচকুচে কালো, দেহ খর্বাকৃতি, ঠোঁট পুরু ও উল্টানো, চুল কুকড়ানো এবং নাক চেপ্টা। এদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কালের প্রবাহে আজ প্রায় বিলুপ্ত। তবে এখনও বাংলাদেশের সুন্দরবন, যশোরের বাঁশফোঁড় ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়।
আফ্রিকার নিগ্রো জাতি থেকে উদ্ভূত এই নেগ্রিটোদের অস্তিত্ব ভারতীয় উপমহাদেশে এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবে এখনও আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, কোচিন, ত্রিবাঙ্কুর, বিহারের রাজমহল পার্বত্য অঞ্চল এবং আসামের কিছু অংশে এদের বংশধরদের দেখা মেলে। বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত সাঁওতাল, হাঁড়ি, চণ্ডাল, মুন্ডা ও ডোম জাতিগোষ্ঠীকে নেগ্রিটোদের উত্তরসূরী বলে মনে করা হয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, নেগ্রিটোরা ঠিক কবে আমাদের দেশে বসতি স্থাপন করেছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও বাংলার আদিম জনগোষ্ঠীর প্রথম স্তর হিসেবে তাদেরই চিহ্নিত করা হয়। জাতিগতভাবে বাঙালি কোনো মৌলিক জাতি নয়; এটি একটি সংকর জাতি। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে বাঙালি জাতির উদ্ভব হয়েছে। নেগ্রিটো, আদি অস্ট্রেলীয় (অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়), দ্রাবিড়, মঙ্গোলীয়, আর্য ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর রক্ত এই জাতির শিরায় মিশে আছে। তাই বাঙালিকে সংকর জাতি বলা হয়ে থাকে। বাঙালিদের আরেকটি নাম ‘নিষাদ জাতি’। এই শব্দের অর্থ শিকারি। প্রাচীন সাহিত্যে উল্লেখ রয়েছে, এই অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীরা শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। সেই সূত্রেই তাদের নিষাদ নামে অভিহিত করা হতো।

  1. নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বাঙালিদের আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে দেখা হয়, যাদেরকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয় বলেও অভিহিত করা হয়। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এই আদি অস্ট্রেলীয়দেরই নিষাদ বলা হয়েছে।
    ভারতীয় উপমহাদেশ সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত। এই যেমন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীকেই প্রাচীনতম অধিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয়।
  2. কয়েকজন গবেষকের মতে, নেগ্রিটোরা সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও মালয় উপদ্বীপে বসতি স্থাপন করেছিল। এই দুটি অঞ্চল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
    আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যা বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এটি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের উপকূলবর্তী অঞ্চলের কাছাকাছি হলেও প্রশাসনিকভাবে ভারতের অংশ। অন্যদিকে, মালয় উপদ্বীপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত একটি উপদ্বীপ, যার অন্তর্ভুক্ত বর্তমান মালয়েশিয়া (বিশেষ করে পশ্চিম মালয়েশিয়া), দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর।
    এই দুটি অঞ্চল শুধু ভৌগোলিকভাবেই নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবসভ্যতার বিকাশে এক অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। নেগ্রিটোদের ইতিহাস সেই সুদূর অতীতের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়, যার প্রভাব বর্তমান বাংলাদেশের জাতিগত বৈচিত্র্যেও প্রতিফলিত হয়েছে

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। 

তথসূত্র:
১.বাঙ্গালার ইতিহাস, প্রথম খণ্ড( রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
২. বাংলা দেশের ইতিহাস, প্রাচীন যুগ(ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার
৩. ভারতের ইতিহাস কথা, ড. কিরণ চন্দ্র চৌধুরী
৪. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, (মাহবুবুল আলম)
৫. উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102