
আশ্রাফুল আলম মোঃ নূরুল হুদা
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়,তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।
মা-বাবা,ভাই -বোন,নিয়ে পরিবার। পরিবার একটি শক্তি। সমাজের তৃণমূল শক্তির নাম পরিবার। পরিবারে শান্তির আবহ নির্ভর করে সকল সদস্যের আচরণিক পরিবেশে। যদি সদস্যদের স্নেহ-শ্রদ্ধা, আলাপ-আলোচনা সহ সকলের সমন্বয় সঠিক ও সুন্দর হয় তাহলে ঐ পরিবার সমাজে আলোচিত আলোকিত পরিবার। এর ব্যতিক্রম হলে সফলতা অনেকটাই দূর আবছা পরিবেশে রুপ নেয়। ফলে পরিবারের আলোকিত বাতিকে শক্তিশালী করতে হলে সকলকেই নৈতিকতার গুনে সমৃদ্ধ হতে হবে। তদ্রূপ পরিবারের গন্ডি পেরিয়ে যেখানে ডুকতে হয় তা হলো সমাজ। পরিবার বা সমাজ এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে আছে ভালো-মন্দের মিশ্রণ। ভিন্ন পরিবার, ভিন্ন রুপ, ভিন্ন চিন্তা ও স্বপ্ন নিয়ে প্রতিটি মানুষ বিরামহীন যুদ্ধ করে চলছে। এ যুদ্ধে সহজ পলিসি কেউ কাউকে দিতে রাজি না। সবাই নিজ,নিজ চিন্তা ও গবেষণা চালিয়ে উপরে উঠার চেষ্টায় ব্যস্হ। কাজ ও উন্নয়নের পরিকল্পনায় সমাজে সবার অংশকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিতে সকলেই কম-বেশী চ্যালেন্জ হাতে নেয়। পরিকল্পনা, কাজ,উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সামাজিক সৌন্দর্য বর্ধনকে যথার্থ, সফল ও অর্থবহ করতে হলে করণীয় কিছু দিক সামনে আনতে হবে।
সমাজের তৃণমূল সকলে মিলে-মিশে গঠিত হয় একটা বৃহৎ শক্তি। অর্জিত শক্তিতে সকলেই সকল কাজে যোগ্য তা কিন্তু ঠিক নয়।
এতে প্রয়োজন সামাজিক সংঘবদ্ধতা সত,যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব।
তাই সময়,সুযোগ, ও সম্ভাবনাকে সঠিক ইনভেস্টমেন্ট করতে হলে নেতা নির্বাচন করা খুবই সময়ের দাবী। নেতা নির্বাচন পদ্ধতি ০২ নিয়মেই বেশী পরিলক্ষিত।
১/ মৌখিক স্বতঃস্ফূর্ত খেলামেলা আলোচনায় সিদ্ধান্ত।
২/ নিরপেক্ষ অবস্থান বুঝাতে চলমান গুপন ভোট। যা একটি পবিত্র আমানত। যার যাকে পছন্দ সে নীরবে তাকে গুপনে মতামত দিবে। এটাই উত্তম পদ্ধতি। যদি তা সত্যিকার আইনে কার্যকর প্রয়োগ হয়।
সকল যুগে,সকল কালেই সময়োপযোগী সঠিক নেতৃত্ব সমাজের কাম্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
কোন এক অভিজ্ঞ আরবী কবি বলেছেন
شر البلاد بلاد لا امير بها
সেই দেশটাই দূর্বল বা খারাপ যে দেশে একজন উপযুক্ত নেতা নাই।
কবি অন্য জায়গায় আবারো বলেছেন
انك لا تجني من الشوق العنبه
যার অনুবাদঃ
নিশ্চয়ই তুমি কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ থেকে আঙ্গুর ফল কুড়াতে পারবেনা।
তার মানে জনগণকে যথাযথ মর্যাদায় সঠিক সুফল পেতে হলে নেতা নির্বাচনে অত্যন্ত সতর্ক ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে হবে। যাতে সাধারণ জনগণের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পথ সহজ হয়।
নতুবা সাধারণ জনগণ তাদের কাজে অনেক হয়রাণীই না বরং ধাপে ধাপে কাঁটার আঘাত সইতে হবে।
নেতৃত্বকে তৃণমূল থেকে চেনা,জানা,লালন ও সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে জনগণের কিছু লক্ষ ণীয় দিক ফলো করতে হয়।
১/ আমি নিজে একজন স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ব্যক্তি আমার সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে। আমার বিবেকের কাঠগড়ায় যাকে তুলনামূলক সর্বোচ্চ কল্যাণমূখী মনে হবে তাকে গ্রহন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
২/সময়,পরিবেশ ও বাস্তবতায় যাকে প্রয়োজনীয় কাজে সহজেই সিদ্ধান্ত প্লেইছ করার দৃষ্টিভঙ্গি পাই তাকে গ্রহন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
৩/ বিবেক-বিবেচনা মহান স্রষ্টা প্রদত্ত এক নিয়ামত। যা চোখে দেখা যায়না, অনুভব করা যায়। এ বিবেক-বিবেচনা অন্ধকার স্রোতে ভাসমান ফেনায় নীরব আক্রান্ত যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
৪/ সময় ও সুযোগ চিরকাল আমাকে তালাশ নাও করতে পারে কথাটার গুরুত্ব বিবেচনায় আজ আমার সিদ্ধান্তই আগামীর আলো ও অন্ধকারের প্রশ্ন।
৫/আবেগ একটি কঠিন যন্ত্রণা। আবেগ আমাকে শাসন করবে,
না আমি আবেগকে শাসন করবো !
সেটা আমাকেই সেট করতে হবে।
একমাত্র কঠিন সিদ্ধান্তই আবেগের লাগাম ধরতে সক্ষম। কারণ ইতিহাসের তিক্ত ইঙ্গিত অধিকাংশ সেলিব্রিটির পতন হয়েছে আবেগ নামক ছদ্মবেশী দরবেশের কাছে।
৬/ কোনকিছুই এমনি এমনি বা হাতে হাতে আসেনা, প্রয়োজন শক্তিশালী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সকল মহলের সার্বিক সক্রিয় সহযোগিতা।
পরিকল্পনা,জনবল,অর্থ, প্রশিক্ষণ ও সঠিক সমন্বয়ই জাতিকে সত,যোগ্য, বিচক্ষণ ও খোদাভীরু নেতা উপহার দিতে দ্রুত এগিয়ে আসবে।
আসুন, সামনে কঠিন পরীক্ষা।
পরীক্ষায় সকলেই যার যার বিবেককে সঠিকভাবে জাগিয়ে তুলা আপনার আমার সকলের মহান দায়িত্ব।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহায্য করো।