
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেলো। স্কুল পড়–য়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীর বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের খরমাবাজার এলাকা। সে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার টালকী ইউনিয়নের টালকী পশ্চিমপাড়া নানার বাড়ি থেকে স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতো।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীর বিবাহের আয়োজন করার দায়ে কোন প্রকার দন্ডাদেশ নাদিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর অনুরোধে মানবিক বিবেচনায় বর-কনের অভিভাবকের নিকট মুচলেকা নিয়ে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, নকলা উপজেলার ধুকুড়িয়া গ্রামের মৃত রুস্তমের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (২০) এর সাথে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিবাহের প্রস্তুতি চলছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। পরে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক তথা ১৮ বছর হওয়ার আগে বিবাহ দিবেন না মর্মে মেয়ের অভিভাবকের নিকট এবং অপ্রাপ্ত মেয়েকে বিবাহ করাবেন না মর্মে বরের অভিভাবকের নিকট মুচলেকা নেওয়া হয়।
এছাড়া বরের অভিভাবকদের হুশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, ছেলের বিয়ে ঠিক করার আগে কনের জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দেখে বয়স সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। পরবর্তীতে এলাকায় কেউ যেন তাদের ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক তথা ১৮ বছর হওয়ার আগে বিবাহ দিতে না পারেন এর জন্য সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে নকলাকে জেলার প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অতএব, এ উপজেলায় বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে কোন ক্রমেই তা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুশিয়ার করেন ইউএনও। প্রয়োজনে বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিভাবক, বর, আয়োজক ও নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী)-দেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বাল্যবিবাহ নিরোধ ও বন্ধে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্টরা সদা তৎপর রয়েছেন বলেও জানান ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম।