
রেজাউল করিম কাপ্তান
শেখার কোনো বয়স নাই। আমরা প্রতিদিনই কোনো না
কোনো ভাবে নতুন কিছু শিখি।বয়স্কদের,মধ্যবয়সীদের, যুবকদের এমনকি ছোটদের থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। ফুল, ফল, পাখি ও প্রকৃতি থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। যদি নিজের মাঝে সদিচ্ছা ও জানার আগ্রহ থাকে তাহলে অর্জন করা যায় নতুন নতুন অভিজ্ঞতা,শেখা যায় নতুন কিছু।
কবিগুরু বলেছিলেন “বিশ্ব মোদের পাঠশালা”। এই পাঠশালাতে বয়সের পরিধির সাথে শেখার কোনো তুলনা চলেনা। শুধু শুধু কিছু মানুষ নিজেকে অভিজ্ঞ এবং অধিক পন্ডিত মনে করেন। বরং প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে নতুন কিছু ঘটছে এবং আমরা তা থেকে শিখছি। কেউ অভিজ্ঞতা শিখে নিয়ে কাজে লাগিয়ে জীবনটাকে বদলে দিচ্ছে আর কেউ কিছু বাজে অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে নিজের জীবন তছনছ করে ফেলছে, অথবা অন্য কারো জীবনে তছনছ করে দিচ্ছে।
সবাই অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, শুধু প্রয়োগে ভিন্নতা।যাদের মানসিকতা স্বচ্ছ ও সুন্দর তাঁরা আবাদ করছেন নতুন এক পৃথিবী। বদলে দিচ্ছেন নিজেদেরকে আর এগিয়ে যাচ্ছেন নতুনত্বের দিকে। পক্ষান্তরে, যারা কলুষিত তারা প্রতিদিনই শিখছেন সমাজে বিবাদ বাঁধানো,অন্যায় জোরজুলুম,ব্যভিচার, বেহায়াপনা ও নীতি বহির্ভূত কাজ। তারা এই সমস্ত বাজে অভিজ্ঞতা ও কলুষিত মানসিকতা দিয়ে নৈসর্গিক পৃথিবীটাকে একটি নরকে পরিণত করছেন।
সত্যিকার অর্থে, আমাদের শেখাটা যদি এমন হতো যে আমরা ভালো কিছু শিখবো, ভালো কিছু করব তবে আমরা নিজেরাও বদলে যেতাম ও বদলে দিতে পারতাম আমাদের সমাজকেও। সবাই অভিজ্ঞতা লাভ করে, পার্থক্য শুধু প্রয়োগে। যাদের মানসিকতা স্বচ্ছ, সুন্দর, তারা নিজেদের মতো করে গড়ে তুলছেন একটি নতুন পৃথিবী। তাঁরা বদলাচ্ছেন নিজেদেরকে, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সমাজ ও রাষ্ট্রকে। আর কিছু লোক রয়েছেন যারা বিষাক্ত অভিজ্ঞতা ও বিকৃত চিন্তাধারা নিয়ে ব্যস্ত। তারা আমাদের সুন্দর সমাজটাকে নরকে পরিণত করছেন। মূলত তারা সমাজ নষ্টের কারিগর।
সমাজ নষ্টের কারিগররা বাস্তবতা থেকে অভিজ্ঞতা নেন,শিখেন।কিন্তু আমুল কোনো পরিবর্তন হয়না তাদের চরিত্রে। তাদের শেখা অভিজ্ঞতায় থাকে সমাজ ধ্বংসের পরিকল্পনা,খামখেয়ালি দাপট বাস্তবায়ন।
বস্তুত, আমাদের অনেকের শেখাটা শুদ্ধতম শেখা নয়। আমাদের শেখার পথ ভুলে ভরা এবং দাম্ভিকতায় ভরপুর। তাইতো আমরা শিখতে গিয়ে পাঠ ভুলে যাই, পাঠ্য ভুলে যাই,ভুলে যাই শিক্ষকের শেখানো আদর্শিক ভাষ্য। আমরা শিক্ষা লাভ করি ঠিকই কিন্তু উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে বাস্তব প্রয়োগে আমাদের মধ্যে বিস্তর ফারাক ।
তাই তো আমরা শিখতে গিয়েও ভুলে যাই শেখার প্রকৃত অর্থ।
প্রশ্ন থেকেই যায় —আমরা কি আদৌ শুদ্ধতম শিক্ষার পথে হাটছি?
লেখক: কবি,কলামিস্ট ও সভাপতি, সমাজ সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, নোয়াগাঁও।