
সামজাদ জসি
ব্যুরো প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় স্বাধীন মিয়া নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার এবং আজগর আলী সরকার বংশের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে চলতি বছরের গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। গত তিন মাস ধরে সেবু সরকারের বাড়ির লোকজনের হামলা ও লুটপাটের ভয়ে আজগর আলী সরকারের পক্ষের প্রায় ১৫০ জন মানুষ এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে বসবাস করছিলেন। গত রোববার তারা নিজ গ্রামে প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
সেবু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বংশের দেড়শ লোক তিন মাস ধরে এলাকাছাড়া ছিল। গত রোববার তারা গ্রামে ঢোকার পর আজগর আলী সরকারের পক্ষের সাদেক মেম্বার, ইসমাইল, ইব্রাহিম, জহিরুল হক ছোট্টু মিয়া, মোমেন মিয়া ও এমরানের নেতৃত্বে একতরফা হামলা চালানো হয়। এ সময় আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ১০টি গরু ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।”
অন্যদিকে, আজগর আলী সরকার পক্ষের নেতা সাদেক মেম্বার দাবি করেন, “পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা কোনো লুটপাট করিনি।”
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লিটন আব্দুল্লাহ জানান, জুয়েল মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।