
আশ্রাফুল আলম মোঃ নূরুল হুদা:
আমরা সকলেই সকলকে কম-বেশি চিনি ও জানি। যা একেবারেই চিরন্তন সত্য। কিন্তু এ চেনা-জানায় পরিবর্তন গতানুগতিক বিদ্যমান।শ্রাবণের আকাশ যেমন স্হায়ী সত্য নয়, তেমনি মানুষের জীবনে চলন-বলন, আচার-আচরণ উঠাবসা সবসময়ই এক হবে এটা ভাবনাও ঠিক নয়।
প্রতিনিয়ত শ্লোগান শুনি পরিবর্তনের হাওয়া।
দুনিয়ায় পরিবর্তনের হাওয়া বহমান। প্রতিটা প্ল্যাটফর্মে পরিবর্তন। নতুনের আওয়াজ ও পদধ্বনিতে মুখরিত প্রতিটা জনপদ।
শ্লোগানের হাওয়া মানুষের আচরণিক জগতেও তাল ধরেছে। মানুষ ছোট থেকে বড় হওয়া তথা পারিবারিক, সামাজিক, একাডেমিক তথা রাজনৈতিক হাওয়ায় ক্ষেত্রমত সময়ই তাকে রুপ বদলাতে উৎসাহ দেয়।
সমাজের সকল সুশীলদের কথা একটাই ব্যক্তির বিদ্যা-বুদ্ধি জ্ঞান,গুণ, যাই হউক না কেন তাকে আচরণে হতে হবে ভদ্র, মার্জিত,ও রুচিশীল। এ গুণগুলো থাকলে জনপদে অবশ্যই সেলিব্রিটি হওয়ার সুযোগ থাকে। আর এ গুণগুলোর বাহিরে যতই বিদ্যান বা সনদওয়ালা হিসাবে পরিচয় দিবেন, এতে জনগণ বা লোকালয়ের সকলেই তাকে ভিন্ন চোখে দেখবে এটাই স্বাভাবিক।
এটা অত্যন্ত কঠিন সত্য কথা। মানুষ বড় কিছু চায়না, চায় সুন্দর ও রুচিশীল একটা আচরণ। যা তাকে একটু স্বস্তি দেয়। এ স্বস্তিটুকু অনেক মূল্যবান। যা এখন সমাজে পাওয়া অনেকটাই ভাগ্য বলা চলে।
সমাজে যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে, তারা সত্যিকারভাবে একটু ব্যবহারে আন্তরিক হলে সমাজটা প্রস্ফুটিত বাগানে রূপ নেয়।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই শুধু হতাশা আর হতাশা! কারণ আমরা আমাদের আচরণকে নেগেটিভ শক্তিতে রঙ্গিন করতে পারদর্শী।
যে তিন শক্তি অধিকাংশ মানুষকে বেপরোয়া উগ্রতায় নিয়ে যায়, তার সাথে আমরা একটু পরিচিত হই।
১ম শক্তি
অর্থঃ সাহিত্য অঙ্গনের খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ “বিষাদ সিন্ধুতে” অর্থের ব্যাপারে আক্ষেপের সুরে বলেছেন অর্থ, হায়রে অর্থ, হায়রে পাথকী অর্থ তুইতো জগতে সকল অনর্থের মুল।
অর্থ মানে টাকা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে টাকার বিশেষ প্রয়োজন এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তবে সে টাকা উপার্জনে নান্দনিক বৈধ রাস্হার প্যাসেন্জার হওয়া যেমন খুবই জরুরি তেমনি এ টাকায় জনপদে কেউ যেন ধাপে,ধাপে বিপদের সম্মুখিন না হয় সেটাও জরুরি।
নান্দনিক বৈধ রাস্হায় অনেকেই অর্থ উপার্জন করে একথা যেমন ঠিক,
তদ্রূপ নিন্দিত নেগেটিভ রাস্তায় অনেকেই উপার্জনে খুবই স্মার্ট ।
দেখা যায় বৈধ রাস্হার চেয়ে নেগেটিভ রাস্তার পাল্লা অনেক ভারী।
রাস্তা যেমনই হউক উপার্জনে ঝুড়ি যখন সমৃদ্ধ ও বোঝাই হয় তখন নিজ সত্বাকে যথাযথ রাখা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, হক- না হক এগুলোর বিশ্লেষণ ক্ষমতা অনেকটাই অনেক সময় পরাজিত হয়।
দৃষ্টিভঙ্গিতে তৈরী হয় অহমিকার নিকৃষ্ট দুর্গন্ধ।
২য় শক্তি
চেয়ারঃ
চার পায়াবেষ্টিত হাতলওয়ালা কাঠের আসনের খান্দানী পরিচয় চেয়ার। যার খান্দানী গভীরতা সীমাহীন। এর প্রতি লোভ বা আকর্ষণ নাই এমন ধৈর্য্যশীল মানুষ সমাজে পাওয়া খুবই মশকিল।
পাওয়া গেলেও তা সংখ্যায় খুবই কম।
চর্মচক্ষে দেখতে স্বাভাবিক একটা চেয়ার। কিন্তু ক্ষেত্রমত অনেক সময় এটা ভয়ংকর শক্তির আভাস দেয়। যা জনপদের পরিবেশকে বিপর্যয়ে নিতে একটুও দ্বি-ধা করেনা। সুশীল বা ভদ্র সমাজে কখনোই এটা কাম্য নয়। চেয়ার মানে ক্ষমতার অনেক বড় বাজেট।
এতে বসলে অনেকেই নিজের সঠিক সত্বা হারিয়ে
অনেকটাই বেপরোয়া হয়।
৩য় শক্তি
জনবলঃ জন মানে ব্যক্তি বা মানুষ, আর বল মানে শক্তি বা ক্ষমতা। জনবল মানে ব্যক্তি বা মানুষের ক্ষমতা।
জাগতিক ধরায় মানুষ যে সকল ক্ষমতার মোহে অগ্র-পশ্চাতের সকল রাস্তা শুধুই রঙিন দেখে তার মধ্যে জনবলের অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী। অর্থ ও চেয়ারের দাপটের চেয়ে জনবলের দাপট কোন অংশেই কম নয়। জনবল মানে ব্যক্তির জনের আধিক্য। তার নিজের জনশক্তি বেশী বা অনেক বেশী। অনেক সময় তাকে যে কোন পরিবেশে কারণে অকারণে ঝগরাটে করার শক্তিশালী উপকরণ। যার জন কম সে সঙ্গতই দূর্বল। জনসংখ্যায় যারা কম অনেক সময় অনেক পরিবেশে যৌক্তিক কথা, প্রাপ্য,তথা ন্যায় সঙ্গত দাবি অনেকটাই অসহায় পথহারা পথিকের মত।
যখন এ তিনশক্তির নেগেটিভ গুণাবলী দৃশ্যমান হয় তখন পরিবার,সমাজ তথা গোটা এলাকা থেকে শান্তির সু-বাতাস দূরদিগন্তে পলায়ন করে।
পক্ষান্তরে, যদি
অর্থ, চেয়ার ও জনবল এ তিনশক্তি নীতি নৈতিকতা, বিনয়,ভদ্রতা ও সুস্থ জ্ঞানে গুণীর পরিবেশে সজ্জিত হয়, তাহলে জনপদের সকল পরিবেশ সূখ,সমৃদ্ধি,ও শান্তির মহাবসন্তে স্হায়ীত্ব লাভ করে।
আসুন, আমরা সকলেই এ মহাবসন্তের বটবৃক্ষের
সাথে নিজেকে আলিঙ্গন করি।