
শেরপুর প্রতিনিধি :
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে একটি স্থগিত ও দুটিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সংসদীয় ১৪৩ শেরপুর-১ (শেরপুর সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ও সংসদীয় ১৪৪ শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদীয় ১৪৫ শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রতীদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারনে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-১ আসনের পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ ১৪৬টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে জামায়াতের মনোনিত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াঙ্কা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি’র বিদ্রোহী) শফিকুল ইসলাম মাসুদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়েছেন, জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক মনি লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫১ ভোট, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মনোনিত প্রার্থী মো. লিখন মিয়া শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী) মো. ইলিয়াস উদ্দিন কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২০৫টি। এ আসনে ৫৪.০৩ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং হ্যাঁ ভোটে অধিকাংশ সমর্থন দিয়েছেন।
শেরপুর-২ আসনের পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ ১৫৫টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতীদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট। এছাড়া অন্য দুই প্রতীদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ বাদশা ঈগল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮টি। এ আসনে ৬০.৯৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং হ্যাঁ ভোটে সর্বাধিক সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে উভয় আসনে বেসরকারি ভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হওয়ার পরে তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা খন্ড খন্ড বিজয় মিছিল বের করেন। তবে তাৎক্ষণিক উচ্ছসিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়ে মিছিল বন্ধ করেদেন বিজয়ী প্রার্থীরা। তাছাড়া সকল প্রকার মিছিল ও সমাবেশ বন্ধ রাখার পাশাপাশি কারো সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করা থেকে সকলকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। বিজয়ীরা তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে জানান, নির্বাচনের সময় সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারগন নিজ নিজ জায়গা থেকে দিন-রাত কষ্ট করেছেন। এখন সর্বস্তরের ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাদেরকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পরামর্শ দিয়েছেন শেরপুর-১ ও শেরপুর-২ আসনের বিজয়ী দুই প্রার্থী।