বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
শান্তিগঞ্জে ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার আঘাতে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি উন্নয়নে কর্মশালা সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট এলাকায় সাংবাদিকতার পরিচয়ে হাসান আলীর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির অভিযোগে এলাকাবাসির মানববন্ধন বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে ধর্মপাশায় র্যালি ও আলোচনা সভা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, অপরাধ দমনে জোর ঝিকরগাছায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ৬ নভেম্বর। সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন উন্নত ও বৈষম্যহীন ভাটিপাড়া ইউনিয়ন গড়তে কাজ করে যাব—নিয়াজ মাহমুদ রিপন শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা

১২ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: ধ্বংসের মুখে জামালগঞ্জের তেরানগর ব্রিজ

সুনাম দিগন্ত ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
২৭০

মো. শাহীন আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ পথ তেরানগর ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এই পুরোনো, জীর্ণ ও দেবে যাওয়া কাঠামোর ওপর দিয়ে পারাপার করছেন। ছোট যানবাহন থেকে পথচারী-সকলের জন্যই এটি যেন মৃত্যুফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বহু প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তব উন্নয়নকাজের দেখা মেলেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য এটি একমাত্র চলাচলের পথ। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কেটে গেছে ১২ বছর, কিন্তু এখনো হয়নি স্থায়ী সমাধান। সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়া, উন্মুক্ত লোহার রড বেরিয়ে থাকা, বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়া-এসব কারণে অটো, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত একযুগে এ এলাকায় ঘটেছে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা।

ইজিবাইক চালক স্বপন বলেন, “পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়। হুইল পিছলে গেলে গাড়ি নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থেকে যায় সব সময়। কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করি।”

পথচারী গীতারাণি জানান, “ব্রিজে উঠলেই মনে হয় দেবে যাবে। বাচ্চা নিয়ে পার হওয়া দুঃস্বপ্নের মতো। সারা দেশে উন্নয়ন হলেও আমরা যেন মৃত্যুফাঁদে হাঁটি।”

পথচারী কাসেম মিয়া বলেন, “ব্রিজ ভাঙা থাকায় গাড়িচলাচল কমে গেছে। মালপত্র আনা-নেয়ায় কষ্ট হয়, ভাড়াও বেশি লাগে।”

কৃষকদেরও একই অভিযোগ-বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিলছে। তাদের ভাষায়, “বাঁশের সাঁকোর কথা শোনাই, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি। বছরে একমাত্র ফসল বোরো ধান। সার, বীজ, কৃষি উপকরণ আনতে-নিতে এবং ফসল ঘরে তুলতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় এই ব্রিজের কারণে।”

ভীমখালি ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, “তেরানগর ব্রিজের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে আমি বহুবার এলজিডি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তেরানগর ব্রিজসহ ইউনিয়নের আরও কয়েকটি ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে এগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নিমাণ খুবই জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জামালগঞ্জে দীর্ঘদিন কোনো ব্রিজে বড় ধরনের সংস্কার বা নতুন নির্মাণ হয়নি। তেরানগর ব্রিজের কাগজপত্র নতুন করে প্রেরণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ব্রিজের প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে তেরানগর ব্রিজ অন্যতম। চলতি মৌসুমেই ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার আশা করছি।”

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এখন একটাই দাবি-অস্থায়ী সংস্কার নয়, দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা কাগজপত্রের জটিলতায় আর সময় নষ্ট নয়; তেরানগর ব্রিজই জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরণের আরও সংবাদ
themesba-lates1749691102