
আশ্রাফুল আলম মোঃ নুরুল হুদা
ভূমিষ্টকাল থেকে বাচ্চা, শৈশব,কৈশোর,তরুণ,মাঝবয়সী, শেষবয়সে মুরুব্বি। সর্বসাধারণের সামাজিক সর্বশেষ ডাক চাচা।এটাই মানুষের জীবন নামের সিলেবাস।মক্তব,পাঠশালা,মাধ্যমিক,কলেজ,ভার্সিটি শেষ করে ছাত্রত্বের স্বাভাবিক সিলেবাস শেষ হয়।
কর্মে প্রবেশের পরেও একই চিত্র। যেমন, কবে চাকরীতে যোগদান হলো?কিছুদিন পর চাকরী কেমন চলছে?সুন্দর পরিপাটি অবস্থা।
বেশকিছু দিনপর আপনার চাকরী আর কয়দিন বাকী?
শেষদিকে অবসর সময় কেমন কাটছে?
হাক-ডাক, রঙ্গিন চশমা, চেয়ার,আর বালতি ভর্তি স্বপ্নের চাকা সামনে থাকেনা। অসহায় লাগে বড্ড!
সময় কাটেনা, ভাব জমেনা, হাট নীরব, কোলাহল চুপ, প্রকৃতি দূর প্রতিবেশী।
একাকিত্ব, একাকিত্ব, শুধু একাকিত্ব!
এখন বডিতে খামছে ধরেছে ফার্মেসী,ক্লিনিকে রক্ষিত পারফিউম,যা ভক্ষণ ও প্রয়োগের বিকল্প কোন উইন্ড নেই।
বডি তার ক্যারিয়ার থেকে মগজকে পেট্রোনাইজ করে। এখন শুধু স্রষ্টার নাম আল্লাহু,আল্লাহু।
আর পেছনের অর্জিত নেগেটিভ সকল বাহবা থেকে মহান মা’বুদের কাছে ক্ষমার আ্যপ্লিকেশন সামনে রাখা।
এটার নামই বাড়ি, গাড়ি, নারী,ক্ষমতা ও রঙিন গল্পের লোভনীয় জীবন।
ঘুম ভেঙে গেলো। এইতো পিছনে কয়দিন আগে আমি ছিলাম ছাত্র, পরে শিক্ষক।
এখন চোখের পলকেই নিঃসঙ্গ একা ও সমাজে চিরচেনা শব্দ বৃদ্ধ নামের উচ্চারণটা দেহের পোশাকে নয়,পুরু চামরার সাথে একাত্ম হয়েছে।
তারপরেও আমাদের মোটেও বোধোদয় হয়না যে আমি এখানকার স্হায়ী প্যাসেন্জার নই।
আমাকে নির্ভুল গাইডবুক, বিন্যাসকৃত ওয়ার্কপ্লান,নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টা, ও ঘোষিত লোভনীয় পারিশ্রমিক দিয়ে কম সময়ের জন্য পরীক্ষার হলে বসানো হয়েছে।
এতে আমাকে চূড়ান্ত কামিয়াব হতে হলে আমাকে কিছু ছবক মানতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে।যেমন:
দুনিয়াটা পরীক্ষার হল,সময় খুবই কম যা অজান্তেই আছে,সিলেবাস নিজেকে জানতে হবে ও বিনা বাক্যে মানতে হবে, নিজের দেহ ও মনকে বিকশিত করতে হবে,খামাখা পেরেশানি স্হায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে,চেনাজানা সেলাই বিহীন সাদা পোশাক পরার পর দুনিয়ার ইতিহাসের সাথে কেউ গাদ্দারী করে সেকেন্ডের জন্যও মাটির নীচে আমার সাথে আসবেনা।
সর্বোপরি, আমাকে আমার জন্যই তৈরী করতে হবে-
ক) মেধার সঠিক,সুন্দর ও উত্তম প্রয়োগ।
খ) মানবের কল্যাণে সেবাধর্মী ওয়ার্ক।
গ) কম হউক বেশী হউক( দ্বিনি) প্রজন্মের কাছে হলরুমের কালি, কলম, সময় ও সিলেবাস সহ সু-শিক্ষা দিয়ে যাওয়া।
তাহলে হয়তো আমরা রবের দয়া পাইতেও পারি।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক,বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।