জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ঠাকুরের মাটি এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে পানি নিষ্কাশনের পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০০ ফুটের বেশি প্লাস্টিকের পাইপ স্থাপনের এ উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বরাদ্দ ও কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এলাকার তিনটি রাস্তা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে পাইপ স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসের প্রায় ২ মাস ২০ দিন পর বরাদ্দ পাওয়ায় কাজটি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে। এতে এলাকার শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পশ্চিম ঠাকুরের মাটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিত। এতে বসতবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিরসনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বরাদ্দের উদ্যোগ নেন। পরে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

কাজের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহজাহান, ইউপি সদস্য ওহিদুর রহমান, শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন, ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মানিক মিয়া, সমাজসেবী সোহেল রানা, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, আনিছুর রহমান, সাইফুল্লাহ, রুহেল আহমেদ, আলম মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অবশেষে বরাদ্দের মাধ্যমে কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা আশাবাদী, পাইপ স্থাপনের পর পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা ইউএনও সুনন্দা রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাইপ স্থাপনের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।