ডিমের গুণগতমান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে “ডিমে পুষ্টি ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি”-এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে সারা দেশের ন্যায় শেরপুরের নকলায় ২৪তম বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও এতিম খানার শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম বিতরণ করা হয়।

উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের মিলনায়তনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে খামারিদের অংশ গ্রহনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ ও তরুণ ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন শাহাদত।

ডা. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে খামারিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পোল্ট্রি শিল্পের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বিশ্ব ডিম দিবসের গুরুত্ব এবং ডিমের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা জানান, ডিমকে একপ্রকার পরিপূর্ণ (সুষম) খাদ্য। ডিমে যেসব পুষ্টিগুণ থাকে, তা সাধারণত অন্যান্য খাবারে খুব কমই থাকে। এটি গর্ভবতী মা, শিশু, কিশোর এবং বয়স্কদের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

পুষ্টি বিজ্ঞানের বরাতে তারা আরো জানান, একটি সম্পূর্ণ ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম মানসম্মত প্রোটিন, ৫ গ্রাম উন্নত ফ্যাটি এসিড, ৭০ থেকে ৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ১০০ থেকে ১৪০ মিলিগ্রাম কোলিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ থাকে। ডিমের প্রোটিনে রয়েছে মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সকল অ্যামাইনো এসিড যা দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনে সহায়ক। ডিমের ফ্যাটি এসিডে এলডিএলের চেয়ে এইচডিএল এর অনুপাত বেশি। ফলে নিয়মিত ডিম খেলে রক্তে এইচডিএলের অনুপাত বাড়ে। মুরগির ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ডিমের কোলিন মস্তিস্ক কোষ গঠন ও সিগন্যালিং সিস্টেমে কাজ করে মানুষের স্মরণশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও ডিমে লিউটিন ও জেক্সানথিন রয়েছে যা চোখের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে।

আলোচনা সভার পরে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় এবং র‌্যালি শেষে নকলা পৌরসভার কলাপাড়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সেদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আলমগীর হোসেন, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম খান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সাব্বির মন্ডলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের জনগন, পশু পালনকারী স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, মাদ্রাসার মোহতামিমগন ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আর্থিকসহ সার্বিক সহযোগিতা করেছে সাত ভাই পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিড এবং লিম এগ্রোভেট নামক ভেটেরিনারি কোম্পানী।

তথ্যমতে, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত আইইসি ভিয়েনা কনফারেন্স থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী চলছে একটি ইতিবাচক ক্যাম্পেইন। যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের প্রয়োজনীয়তার বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবারে বিশ্বজুড়ে “বিশ্ব ডিম দিবস” উদযাপিত হয়ে আসছে।