সামজাদ জসি
ব্যুরো প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দেশি-বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের বর্ণিল অংশগ্রহণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উদযাপিত হলো ক্রীড়ামোদী মানুষের এক মহামিলনমেলা। সম্প্রীতি, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবলম টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর ফাইনাল খেলা এক উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাসিরনগর উপজেলা সদরের আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে এই গ্র্যান্ড মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার দর্শকের উল্লাস ও করতালিতে পুরো মাঠটি এক অবিস্মরণীয় জনস্রোতে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের কৃতি গোলরক্ষক মো. আমিনুল হক বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং তাদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখা। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার বিকাশ ঘটিয়ে দেশে নতুন এক ক্রীড়াজাগরণ সৃষ্টি করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলার প্রসারে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তৃণমূল থেকে মেধাবী মুখ খুঁজে এনে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য।” এ সময় নাসিরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন, মাঠ কর্তৃপক্ষ জমি হস্তান্তর বা অনুমতি দিলে তিনি এই ঐতিহাসিক মাঠটিকে আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করবেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব এম. এ. হান্নান (এমপি) বলেন, “বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুবসমাজকে সব ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে এবং খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর।”
ফাইনাল খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ ফরিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দিন, স্থানীয় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রমজান আলী, জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপিকা ও নাসিরনগরের কৃতি সন্তান দীপ্তি চৌধুরী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে. এম. বশির উদ্দিন তুহিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় নূরপুর রহিম ফুটবল একাদশ ও লক্ষ্মীপুর একাদশ। টানটান উত্তেজনাকর ও প্রাণবন্ত এই ম্যাচে নূরপুর রহিম একাদশ ২-১ গোলে লক্ষ্মীপুর একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এর আগে সকালে, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।