সামজাদ জসি

ব্যুরো প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রতীক্ষিত ‘সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক’ ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘব এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় শহীদ ইমরান চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এই মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের শুভ সূচনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব এম এ হান্নান এমপি।

প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আযম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফান উদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান শাহীন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নাসিরনগর উপজেলার সার্বিক কল্যাণ এবং প্রকল্পের সফল ও মানসম্মত বাস্তবায়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এমপি বলেন, “নাসিরনগর একটি কৃষিপ্রধান ও হাওরবেষ্টিত অঞ্চল। এখানকার মৎস্য ও কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হলেও উন্নত সড়কের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই ফোর লেন সড়ক বাস্তবায়িত হলে নাসিরনগরের সাথে হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সুগম হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সড়কটি আধুনিকায়ন ও চার লেনে উন্নীত করা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল। আজ সকল বাধা পেরিয়ে আমরা এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পেরেছি। এটি কোনো একক ব্যক্তির সাফল্য নয়, নাসিরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের আমানত ও অধিকার পূরণের প্রতিফলন।” এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কড়া তাগিদ দেন।

 

হাওরবেষ্টিত এই জনপদের বাসিন্দারা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার হাত ধরে নাসিরনগরের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।