সামজাদ জসি
ব্যুরো প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর একটি ডোবা থেকে ফরিদুল রহমান (৩৬) নামের এক মাদ্রাসা সুপারের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলমুড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফরিদুল রহমান হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার রায়পুর গ্রামের ছাবির হোসেনের ছেলে। তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর বাগে মদিনা ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ফরিদুল রহমান। এরপর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
ঘটনার দিন শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বেলমুড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ডোবায় অর্ধগলিত মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরিদুল রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন আগে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। শনিবার ডোবা থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”
এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার এবং পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, মাদ্রাসা সুপার ফরিদুল রহমান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এর আগে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি।