শেরপুরের নকলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত তিনজনের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগন।
সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নকলা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মোখলেছুর রহমান তারা, পৌরসভার বাজারদি মহল্লার এস.এম আমিনুজ্জামান ফারুক এবং টালকি ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের অ্যাডভোকেট এ.কে.এম আকরাম হোসেনের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক পাঠাকাটা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক ও সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর। এছাড়া অলিখিত বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বাদশা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন মুক্তার, দণ্ডপ্রাপ্ত মোখলেছুর রহমান তারার ভাতিজা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এনামুল হক রিপন ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই তিনজনের কেউই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।
এসময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই নকলা উপজেলার চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটি। একই বছরের ৩১ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট আসামীগনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে এক আসামির মৃত্যু হয়। পরে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাকি তিন আসামির বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।