শেরপুরের নকলায় মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে জনসম্পৃক্ততায় সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন (এসবিসি) প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোমান হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাফায়েত হোসেন সৌরভ, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা (শাওন), স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির উপজেলা সমন্বয়কারী নার্গিস আক্তারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মীগন, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সমন্বয়কারী নার্গিস আক্তার প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রকল্পে সম্পৃক্ত দপ্তর ও অংশীজন এবং এর মূলকার্যক্রম সমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো গর্ভবতীদের গর্ভকালীন অন্ততপক্ষে ৪টি সেবা ও প্রসূতিদের প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। জনগণকে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিতে উৎসাহিত করা। গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও শিশুদের পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস তৈরীতে ইতিবাচক আচরণ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা। নবজাতক শিশুর ৫টি অত্যাবশ্যকীয় সেবা সম্পর্কে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা এবং এই আচরণ চর্চায় সাহায্য করা। ১ দিন থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ইপিআই টিকা নিশ্চিতকরণে অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের উদ্বুদ্ধ করা। শিশুর জন্মের পর ছয়মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা এবং মায়ের জন্য সহযোগী পরিবেশ তৈরী করা। কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য অধিকার, বয়ঃসন্ধিকালীন পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি এবং সিজি কমিটির সদস্যদেরকে সক্রিয় করা। প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সেবার মান বৃদ্ধি করা ও কমিউনিটি একাউন্টেবিলিটি সিস্টেম তৈরি করা।
এছাড়া প্রকল্পটির অংশীজন হলেন, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, সমাজসেবা বিভাগ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, এনজিও, কমিউনিটি লিডার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি, গর্ভবতী, প্রসূতি, অভিভাবক, পরিচর্যাকারী ও কিশোর-কিশোরী। এদের সাথে সমন্বয় করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে নার্গিস আক্তার জানান।
জানাগেছে, এই প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মূলকার্যক্রম হলো, মা-দলের ইস্যুভিত্তিক উঠানবৈঠক, কিশোর দল ও কিশোরী দলের ইস্যুভিত্তিক উঠানবৈঠক, পুরুষদের নিয়ে ইস্যুভিত্তিক টি-স্টল সভা, গার্লস গাইড ও বয়েজ স্কাউট সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের ওরিয়েন্টেশন, সিজি কমিটির সদস্যর সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন, কমিউনিটি ডায়ালগ ও অ্যাকশন প্ল্যান, স্থানীয় প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন, ওয়ার্ডভিত্তিক লোকসঙ্গীতের আয়োজন, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মতবিনিময় ও ভিজিট করা।