নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাসির ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে শেরপুরের নকলা উপজেলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ফোরামের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. নাসির ও স্বাস্থ্য কর্মীর উপর হামলার প্রতিবাদে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা ও চিকিৎসকদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের দাবিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলে।

মানববন্ধনে বক্তারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত সবাই মানববন্ধনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে জানান, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর গুরুতর অবস্থা আত্মীয়স্বজনকে বিস্তারিত অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন চিকিৎসক। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিক শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। পরে দয়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ও স্বাস্থ্য কর্মীর উপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারতে থাকে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে তাকে মারতে মারতে বের করে আনা হয় এবং ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলে হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থা করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।