নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শেরপুরের নকলা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহমুদুল হক দুলাল মারা গেছেন; ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সে জামালপুর জেলার সদর উপজেলাধীন হনুমানের চর এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শেরপুরের নকলা উপজেলার ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চন্দ্রকোনা বাজার এলাকায় বাড়ী করে পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

মরহুমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহমুদুল হক দুলাল বার্ধক্য জনিত কারনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভোগ ছিলেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সোয়া তিনটার (০৩:১৫ মিনিট) সময় রাজধানী ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাযা নামাজ শনিবার বিকেল ৩টার সময় নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, দ্বিতীয় জানাযা নামাজ বিকেল সাড়ে ৫টা (০৫:৩০ মিনিট) চন্দ্রকোনা রাজলহ্মী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও তৃতীয় জানাযা নামাজ মরহুমের পূর্বপুরুষের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সদর উপজেলার হনুমানের চর এলাকায় মাগরিব নামাজের পরে অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে চৌকস পুলিশের একটি দল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানাতে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এর পরে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ও ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম নকলা থানার পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যদিয়ে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহমুদুল হক দুলাল-এঁর লাল মুক্তিবার্তা তালিকা নম্বর ০১১৪০৩০১৭৬, গেজেট তালিকা নম্বর ১০২০ ও কল্যাণ ট্রাস্ট তালিকা নম্বর ১৯৮৭ (বই নং: ২)। মৃত্যুকালে স্ত্রী, কন্যা ও নাতি-নাতনীসহ তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দেশর গর্বিত সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহমুদুল হক দুলাল রাজনৈতিক জীবনে মৃত্যুকালেও জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তি যোদ্ধাদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদ্যসাবেক সদস্য সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দলকে সুগঠিত ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন। দলের জন্য তাঁর ত্যাগ, সাহস, নিষ্ঠা ও সততা আগামী দিনের প্রতিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তি যোদ্ধাদল, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নকলা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ও স্থানীয় সংবাদকর্মী, অদম্য মেধাবী সহায়তা সংস্থা, রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল আলাদাভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।