হোসাইন মাহমুদ শাহীন,সুনামগঞ্জ :
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিচার চেয়ে বঞ্চিত রয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। সুনামগঞ্জের ছাত্র জনতা ও জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলন সংগ্রামের প্রেক্ষিতে গণদাবীর প্রেক্ষাপটে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য করার স্বার্থে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ইং এর আওতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (পরিচিতি নং ১৫৯০৭) এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনিত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সমর্থিত সুনামগঞ্জ-২ দিরাই শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ঐ অভিযোগটি দায়ের করেছেন। সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে এবং সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের মাধ্যমে দায়েরকৃত অভিযোগে প্রকাশ,ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নতুন সাহেবেরচর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ মালেকের পুত্র ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি মূলত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খালাতো বোন শেখ ফিরোজা বেগমের পুত্র ফরিদপুর ৪ আসনের পলাতক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপির ঘনিষ্ট বন্ধু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সুনামগঞ্জ ২ আসনে জামাত মনোনিত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের রুমমিট ছিলেন। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে ইতিপূর্বে দুইবার বদলী করা হলেও শিশির মনিরের তদবীরে প্রতিবারই তাঁর বদলী ঠেকানো হয়। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতি ও শেখ হাসিনা পরিবারের ঘনিষ্ঠ থাকলেও বর্তমানে শিশির মনিরের ছত্রছায়ায় তিনি সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পূণর্বাসনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রমাণ হিসেবে সাতদফা অভিযোগ উত্থাপন করা হয় ঐ রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো হচ্ছে প্রথমত : গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস-২০২৫ সরকারিভাবে উদযাপনে তিনি জেলা সদরসহ সবকটি উপজেলায় জামাত নেতৃবৃন্দকে প্রাধান্য দিলেও একটি অনুষ্ঠানেও বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে রাখেননি। ৭১ এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে ১২ ফেব্রæয়ারি ২৬ইং এর নির্বাচনে জামাতের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সে লক্ষ্যে জেলার প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভার সরকারি অনুষ্ঠানে জামাতের এমপি প্রার্থীদেরকে নানাভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ঐ জেলা প্রশাসক। অথচ এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি,সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম রাজনৈতিক দল জমিয়তুল উলামায়ে ইসলাম,এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিএনপি জোটের কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করেননি। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শত্রæমুক্ত দিবস পালন উপলক্ষ্যে শহরে প্রতিবছরের ন্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের প্রদর্শিত বিজয়র্যালি ও শোভাযাত্রা কর্মসুচি বানচাল করে দেন ঐ জেলা প্রশাসক। দ্বিতীয়ত : জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া পুরো ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কাবিখা বাস্তবায়ন কর্মসুচির আওতায় সর্বোচ্চ ৭০২টি ফসলরক্ষা বাঁধ (পিআইসি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ মঞ্জুর করিয়েছেন। অতিরিক্ত বরাদ্দের দিক থেকে যা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জ ২ নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা পাউবোর মনিটরিং কমিটি ও পৃথক পৃথক পিআইসি কমিটিতে উক্ত জেলা প্রশাসক শিশির মোঃ মনিরের গাইডলাইন মোতাবেক তার পছন্দের লোককেই অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এ সুযোগে নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে পিআইসি সিন্ডিকেটভূক্ত সকল সুবিধাভোগীদেরকে প্রচারণায় ব্যবহার করছেন শিশির মোঃ মনির। উল্লেখ্য দিরাই শাল্লা উপজেলায় কোন পিআইসি বা মনিটরিং কমিটিতে বিএনপি বা জমিয়তের একজন প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি কেবলমাত্র শিশির মনিরকে খুশি করার জন্য। তৃতীয়ত : চলতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত জেলা পর্যায়ের নিয়োগ কমিটিতে উক্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,শিশির মনিরের পছন্দের লোককে কমিটিতে রেখে দিরাই শাল্লা উপজেলায় তার পছন্দের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীদেরকে মৌখিক পরীক্ষায় নির্বাচিত করানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। চতুর্থত : গত কিছুদিন পূর্বে দিরাই উপজেলা সদরে,জেলা পর্যায়ের কতিপয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিষয়ে শিশির মনিরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিং অফিসারদেরকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করার জন্য একটি মেটিকুলাস ডিজাইনের আশ্রয় নিয়েছেন শিশির মোঃ মনির। পঞ্চমত : ইতিপূর্বে গত ৬/১/২০২৬ইং প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে উক্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ ৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হোসাইন আহমদ, গত ১৫/১২/২০২৫ইং তারিখে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী খোরশেদ আলম এবং গত ২০/১১/২০২৫ইং তারিখে সুনামগঞ্জের জুলাইযোদ্ধা জহুর আলী,আফতাব উদ্দিন ও রেদোয়ান আহমদ পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরও রহস্যজনক কারণে দুর্নীতিবাজ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।