ডেস্ক নিউজ:

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বেতগঞ্জ বাজারে শারমিন ট্রেডার্স নামে একটি হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস এর দোকানে ভাঙচুর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার আনুমানিক বিকাল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় জালালপুর গ্রামের নুর উদ্দিন এবং তার দুই ছেলে ফয়সল ও ফরহাদকে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুরসহ দোকানের প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে।

এসময় বেতগঞ্জ বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকেরা এই বিষয়টি দেখেন এবং দোকানের মালিক এনামুল করিমকে ফোনে অবগত করেন।তখন এনামুল করিম সুনামগঞ্জ কোর্টে ছিলেন।

জানা যায়,দোকান কোটার মালিকানা নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে পরস্পর বিরোধী মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন জালালপুর গ্রামের এনামুল করিম ও নুর উদ্দিন। মামলাকে কেন্দ্র করে নুর উদ্দিন দফায় দফায় এনামুল করিমকে প্রায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে বেতগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ বলেন এনামুল সাহেব আমার পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী। দোকান ভাঙচুর ও মালামাল সরানোর বিষয়টি সত্য।তিনি বলেন ঐদিন আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে শব্দ শুনতে পাই।পরে দেখি নুর উদ্দিন উনার ছেলে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সামন ও পেছনের দরজা দিয়ে বের করেন।

বাজারের পার্শ্ববর্তী দোকানকোটার মালিক এখলাছুর রহমান বলেন,চোখের সামনে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তালা ভেঙেছে বাপ পুত।অনেকেই এদের শেল্টার দিয়েছেন।আমার জানামতে শারমিন ট্রেডার্সের মালিক এনামুল করিম একজন ভালো মানুষ ও সফল ব্যবসায়ী।

ভুক্তভোগী এনামুল করিম বলেন,এই দোকানের মালিক আমি।প্রতিপক্ষ আমার চাচা হোন।২০০২ সাল থেকে আমি এখানে বিজনেস করি আসছি।জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ২০১৩ সালে মামলা হয়।এখনো মামলা চলমান।মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। ইতোমধ্যে মালামাল সরানোর জন্য আমার প্রতিপক্ষ নুর উদ্দিন আমাকে কয়েকদফা হুসিয়ারীসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।আমি নিরহ মানুষ। তাই বিস্তারিত বিষয় জানিয়ে আমি ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে তারা আমার দোকান জোড়পূর্বক প্রকাশ্যে ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায় এবং দোকানের সামনে ও পেছনে বেশ কিছু মালামাল স্তুপাকারে ফেলে রাখে।দোকানে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এদের ভয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আমি দোকানে বসার সুযোগ পাচ্ছিনা।মনে মনে ভাবছিলাম দোকানের মাল সব বিক্রি করে দেব।এরই মধ্যে তারা আমার বিরাট ক্ষতি করে দিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ সত্যতা খুঁজে পায় এবং আইনানুগ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিলেও একা একজন মানুষ হিসেবে আমি ও আমার ছোট্ট পরিবার প্রতিনিয়ত আতঙ্কে সময় পার করছি।যেকোনো মুহূর্তে এরা আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

অভিযুক্ত নুর উদ্দিন মিডিয়াকে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন,এটা আমার দোকান,লুটপাটের প্রশ্ন আসেনা।বরং অবৈধভাবে সে দীর্ঘদিন থেকে এই দোকান দখল করে আছে।