নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

প্রকৃতিতে শান্তি, শস্য-সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের বার্তা নিয়ে দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে আগমন করেছেন। মহালয়ার মাধ্যমে প্রতিটি হিন্দু পল্লীতে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসব। দুর্গোৎসব উপলক্ষে শেরপুরের নকলা উপজেলায় ২০টি মন্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিমাতে তুলির আঁচড় ও মন্ডপের আশেপাশে সুসজ্জিত করার মাধ্যমে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমাতে রং করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমা অধিকতর আকর্ষণীয় করতে দিনভর পরিশ্রম করছেন তারা।

নকলা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব আশীষ কুমার সাহা বলেন, নকলা উপজেলাটি ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। তবে ২টি ইউনিয়নে পূজা মন্ডপ স্থাপন করা হয়নি। তিনি জানান, এবার উপজেলায় ২০টি মন্ডপ ঘিরে দুর্গোৎসব বা পূজা উদযাপন করা হবে। এরমধ্যে, পৌরসভায় ৩টি, ১নং ডিজিটাল গনপদ্দী ইউনিয়নে ৫টি, ২নং নকলা ইউনিয়নে ২টি, ৩নং উরফা ইউনিয়নে ৩টি, ৫নং বানেশ্বরদী ইউনিয়নে ১টি, ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়নে ২টি, ৮নং চরঅষ্টধর ইউনিয়নে ২টি ও ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে ২টি। উপজেলার ৪নং গৌড়দ্বার ইউনিয়ন ও ৭নং টালকী ইউনিয়নে পূজা মন্ডপ স্থাপন না করায় এসব এলাকার পূজারীবৃন্দ পাশের এলাকার পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপন করবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর আশা ব্যক্ত করে জানান, এবারের পূজা বেশ জাঁকজমক ভাবে সম্পন্ন হবে। ভক্তদের আহবানে সাড়া দিয়ে দুর্গা দেবীর আগমনে শস্য উৎপাদন বাড়বে, প্রকৃতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। এবার দেবীর আগমন জাতি ও বিশ্বমানবতার জন্য কল্যানকর; এমনটাই প্রত্যাশা পুরোহিতসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। তিনি বলেন, ‘বিচালি ও মাটি দিয়ে দুর্গা দেবীসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে তার উপরে মনের মাধুরী মিশিয়ে রং করার কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারিগররা পরম যত্নে দুর্গা দেবী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন প্রতিমাতে রং করার কাজ করছেন। এবার কারিগররা প্রতিমাকে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।’ তিনি জানান, পূজা উৎসবকে নির্বিঘ্নে সার্বজনীন উপভোগ্য করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধর্ম-বর্ণ ও বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর লোকজনের সমন্বয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। এছাড়া মন্দির ও মন্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নকলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী উত্তম কুমার বণিক জানান, দুর্গা প্রতিমা তৈরি করার জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো মানের কারিগর আনা হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি, প্রতিমাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করার জন্য নতুন নতুন ডিজাইন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়েই পূজার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ, এখন প্রতিমাতে রং করা ও মন্ডপ এলাকায় ডেকোরেশনের কাজ চলছে। এবার জাঁকজমকভাবে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।

কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জিত কুমার বণিক বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার শ্রী শ্রী দুর্গা মায়ের রাতুল চরণে পুষ্প অর্চ্চনার মাধ্যমে বোধন কাজ তথা ষষ্ঠী হবে। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অষ্টমী, ১ অক্টোবর বুধবার নবমী ও সর্বশেষে ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে দুর্গা দেবীকে বিসর্জনের মধ্যদিয়ে এবারের পূজা উদযাপন শেষ হবে।’ তিনি জানান, শাস্ত্রীয় মতে এবার দুর্গা দেবী দোলায় (পালকি) চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন।