◑রেজাউল করিম কাপ্তান
আপনি চাইলেও সবার কাছে সবসময় গ্রহণযোগ্য বা প্রিয় থাকতে পারবেন না। কারণ আপনি কোনো পণ্য নন, যার গুণগত মান প্রতিদিন সমান রাখার দায় আপনাকে নিতে হবে। আপনি মানুষ—রক্তে, আবেগে, অনুভবে গড়া। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার আচরণে, ভাবনায় কিংবা আবেগে ওঠানামা থাকবে।
মানুষ হিসেবে কখনো কখনো আপনার ভিতরের মান-অভিমান, ক্লান্তি কিংবা অনুভূতির ভার প্রকাশ পেতেই পারে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো—আপনি যতই আন্তরিক থাকুন না কেন, যতটা সম্ভব সংযত থাকার চেষ্টা করুন না কেন, একটুখানি ভিন্নতা দেখা দিলেই আপনাকে বলা হবে ‘ভিলেন’, ‘চাটুকার’, কিংবা ‘ভীতু’। যেন সমাজ কেবল ফাঁদ পেতে বসে আছে আপনাকে বিচার করার জন্য।
কিন্তু এসব তকমা নিয়ে ভাবার সময় নেই। আপনি যদি নিজের অবস্থান থেকে সৎ থাকেন, যদি পরিশ্রম ও নীতির সঙ্গে পথচলা চালিয়ে যান, তাহলে এ ধরনের অবমূল্যায়ন বা অপবাদ আপনার পথ রুদ্ধ করতে পারবে না। কারণ আপনি কাউকে খুশি রাখতে নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে রাজি নন। আপনিও জানেন, যাকে ঘিরে সবকিছু ত্যাগ করছেন, দিনশেষে তিনিই হয়তো একদিন নির্দ্বিধায় আপনাকে ছুঁড়ে ফেলবে, যখন তার প্রয়োজন ফুরাবে।
তাহলে কেন গায়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করবেন? কেন বারবার নিজেকে জর্জরিত করবেন সম্পর্ক বাঁচানোর অপ্রয়োজনীয় চেষ্টায়?
নিজের পথ বদলে ফেলুন। নয়তো বদলে ফেলুন নিজেকে—তবে নিজের মতো করেই।
নিজের চারপাশ গুছিয়ে নিন, নিজের চিন্তা ও চেতনায় স্থিরতা আনুন। দেখবেন, মনে প্রশান্তি আসবে। পরিবারেও সুখ ফিরবে। আপনি যদি মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন, তবেই আপনার অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্ব হবে সফল।
শরীরচর্চা করুন, নিয়ম মাফিক জীবন যাপন করুন, আত্মসংযম চর্চা করুন। এতে আপনি নিজেই নিজের উন্নত সংস্করণ হয়ে উঠবেন।
আর কেউ যদি প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলে, তাকে জ্বলতে দিন। আপনি নিজের কাজকে আরও বেগবান করুন। সততা, সাহস আর নৈতিকতার পথকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যান দুর্বার গতিতে।
স্মরণে রাখবেন—
আলোকিত মানুষের পাশে ছায়া পড়বেই। তবে আলো কখনো ছাঁয়াকে ভয় পায় না।
লেখক: কবি ও সংগঠক,সভাপতি,সমাজ সুরক্ষা ফাউন্ডেশন,জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।