মেধা, স্মার্ট পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, পারিবারিক অনুপ্রেরণা ও শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনায় সাফল্যের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শেরপুরের নকলা উপজেলার মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী মোশাররাত তাসনিম রায়তা। সে জেলার ঐতিহ্যবাহী নকলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. মোশারফ হোসাইন-এঁর দ্বিতীয় কন্যা। রায়তা ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
রায়তা নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে বর্তমানে নকলা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও উত্তম আচরণের জন্য প্রতিবেশী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাবা-মা ও সহপাঠিসহ পরিচিত সবার কাছে ছোটবেলা থেকেই সে প্রশংসিত।
৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা মোশাররাত তাসনিম রায়তা পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক চর্চার মধ্য দিয়েই নিজের স্বপ্নকে লালন করছে। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে রায়তা বলে, “আমি লেখাপড়া শেষ করে একজন আদর্শ, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। যার ফলশ্রুতিতে সমাজ ও দেশের মানুষের উপকারে আসতে পারব। ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখাই আমার অন্যতম স্বপ্ন।”
রায়তার বাবা মো. মোশারফ হোসাইন পেশায় একজন শিক্ষক। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে এলাকার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন অসংগতি গণমাধ্যমে তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকীয় পাতার উপসম্পাদকীয় ও চিঠিপত্র কলামের জন্য একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।
রায়তার মা হাফছা আইরিন মিলি স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত। তার কর্মব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে সবসময় নিবিড়ভাবে পাশে থেকেছেন। মায়ের শাসন, স্নেহ, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাই রায়তার সাফল্যের পথকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন বাবা-মাসহ স্বজনরা।
রায়তার এই কৃতিত্বে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, সহপাঠী, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। শুভানুধ্যায়ীদের বিশ্বাস- মেধা, পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এগিয়ে চললে ভবিষ্যতেও সে আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং দেশ ও সমাজের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠবে।
পড়া-লেখার পাশাপাশি তার অর্জিত সনদপত্র, ক্রেস্ট ও অন্যান্য উপহার গুলোর মধ্যে- ২০২১ সালে সেরা শিক্ষার্থী পুরষ্কার। ২০২৩ সালে খেলাঘর জাতীয় শিশু কিশোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেইনে শ্রেষ্ঠ। একই সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুইটি ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন।
২০২৪ সালে শাহীন শিক্ষা পরিবার ফাউন্ডেশন শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ এবং জেলার মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন। একই সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বারেরমত উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুইটি ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন এবং ‘টিম আওয়ার নকলা’ কর্তৃক আয়োজিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সে। ২০২৪ সালে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম ও জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ স্কাউটের কাব কার্নিবালে কৃতিত্ব প্রদর্শন। ওই সালেই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে কাবিং ইভেন্টে ও লোকনৃত্যে প্রথম স্থান অর্জন এবং জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ওই বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গণিত দৌঁড়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও গণিত দৌঁড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা-উপজেলার সুনাম বয়ে আনে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস-এ উপজেলা, জেলা ও বিভাগ প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় পর্যায়ে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির জন্য মনোনিত হয়। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে রায়তা। সাংবাদিক কন্যার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করায় নকলা প্রেসক্লাব পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মাননা সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্তদের ১৯ জুলাই রবিবার সংবর্ধনা প্রদান করা হবে মর্মে এরইমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসব অর্জন ছাড়াও আন্ত:স্কুলসহ কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তব্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঅঙ্কন ও নাচ-গানসহ শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষামূলক যেকোন প্রতিযোগিতায় এবং নিজ শ্রেণির সকল মূল্যায়নে মেধাক্রমে কৃতিত্ব অর্জন করায় পুরষ্কার হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, সনদপত্র ও ক্রেস্ট পুরষ্কার ছিনিয়ে আনে এই মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী মোশাররাত তাসনিম রায়তা।
সে শিশু কাল থেকেই শিক্ষা বিষয়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে শিখেছে। শিশু লেখক হিসেবে সে পরিচিতি পেয়েছে। এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি সংশ্লিষ্ট তার লেখা চিঠিপত্র দেশের প্রথম সাড়ির বেশকিছু পত্রিকায় পাঠকের পাতায় গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছে। লেখালেখির ধারা অব্যাহত আছে বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
মেয়ের এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি আনন্দ প্রকাশ করে কন্যার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার অন্যতম সহায়ক হিসেবে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন রায়তার বাবা-মা, দাদা-নানা, মামা-চাচাসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।