সুনামগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
সৃজনশীল মডেল স্কুল,ঘাসিগাঁও,আমপাড়া বাজার,সুনামগঞ্জ সদর,সুনামগঞ্জের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছালিক আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রীকে তার বন্ধুর সাথে প্রেমে বাধ্য করা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার বন্ধু ফারাবী আলমগীর এবং স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফারাবী আলমগীর প্রায়ই বন্ধুত্বের সূত্রে স্কুলে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তিনি নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পছন্দ করেন এবং বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনকে জানান। এরপর প্রধান শিক্ষক তার দায়িত্ব ও অবস্থানের প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্রীর সঙ্গে আলমগীরের যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। যদিও ছাত্রীটি শুরু থেকেই অনিচ্ছুক ছিল, তবুও বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে তাকে কথা বলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্কুলের সভাপতি ফারুক মিয়ার মাধ্যমে আলমগীরের পক্ষ থেকে ছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে ছাত্রীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকেই ছাত্রীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি শুরু হয় বলে জানা যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ছাত্রীর পরিবার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আলমগীর, প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনের মাধ্যমে মেয়েটিকে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করতে চাপ দিতে থাকেন। ছাত্রীটি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে একাধিকবার শ্রেণিকক্ষের সামনে অপমান ও লাঞ্ছিত করা হয়।
এসব ঘটনার কারণে ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। বিষয়টি সে তার পরিবারকে জানায়। পরিবারটি স্কুলের সভাপতির কাছে অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর কারণ ফারাবী আলমগীর স্কুল সভাপতির আত্মীয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ ওঠে, আলমগীর একটি মোবাইল ফোন ও একটি থ্রি-পিস প্রধান শিক্ষক ছালিক সুমনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে পাঠান। প্রধান শিক্ষক স্কুলের অপর এক ছাত্রীর মাধ্যমে সেগুলো পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথমে সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও তাকে চাপ দিয়ে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয় এবং আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে ছাত্রীটি বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যে ছাত্রীর মাধ্যমে উপহারগুলো পাঠানো হয়েছিল, তাকে সতর্ক করতে যান। এ সময় ওই ছাত্রীর বাবা বিষয়টি জানতে পেরে সমাধানের উদ্দেশ্যে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে তাদের বাড়িতে ডাকেন।
ঘটনার পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে প্রধান শিক্ষককে ঐ মেয়ের সাথে ধরা হয়েছে।
আসলে তা সত্য নয়।
আরো অভিযোগ রয়েছে ছালিক সুমন স্কুলের অনেক মেডামকে সেক্সুয়াল হেরাসমেন্ট করার চেষ্টা করে। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় এক ম্যাডামের সাথে প্রেম করতে গিয়ে এলাকাবাসী জানাজানি হলে, পরে ম্যাডামকে বিয়ে করে।
চলমান বিষয় নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।প্রশ্ন জেগেছে একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে তার প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রীকে তার বন্ধুর সাথে প্রেম করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শিক্ষকতা পেশার নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছালিক আহমদ সুমনকে কল দিলে,কোনোরূপ কথা না বলেই ফোন কেটে দেয়।