আশ্রাফুল আলম মোঃ নূরুল হুদা
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়,তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।
আমরা জাতি হিসাবে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। যা জন্মগতভাবেই আমরা পেয়ে আসছি। এতে আমাদের পৃথক কোন নিজস্ব অর্জন নাই। সকল কালেই সকল মানব এ গর্বের অংশীদার। কিন্তু ভূমিষ্ট হওয়ার পর কেউ পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যক্তিবিশেষের সঠিক তত্ববধানে নিজেকে পেশাগতভাবে চূড়ান্ত সফলতায় নিয়ে যায়।
পেশা হিসাবে যোগ্যতা,অভিজ্ঞতা, ভাগ্য এবং পারিপার্শ্বিক নানা পরিক্রমায় কেউ উঁচু আসন আবার কেউ স্বাভাবিক বা নীচু আসনে স্হান দখল করে।
ব্যবসা-বাণিজ্য সহ দেশে-বিদেশে নানা শ্রেণীর পেশার মধ্যে শিক্ষকতা পেশাও সমাজের একটি নির্ভরযোগ্য পেশা। যাকে সমাজ স্বীকৃতি দেয়, মানুষ গড়ার কারিগর, সমাজের আলোক বর্তিকা তথা সমাজ এ পেশাকে নানা সম্মানসূচক মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এসম্মানকে কোন এক সময় চমৎকার এক উদাহরণে বাদশাহ আলমগীর আরো উচ্চাসনে অলংকৃত করেছিলেন। যে উদাহরণ ইতিহাসে এখনো শিক্ষণীয় হিসেবে জ্বলন্ত প্রমাণ। সকল পেশায়ই কোন না কোনভাবে স্বাধীনতা বা সুযোগ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনার আনুকল্যে স্হান পায়।
যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজের স্বাধীনতা অবারিত। যখন তখন নিজের সুবিধায় ভালো-মন্দে সবকিছু ভোগ করার সুযোগ থাকে।
এভাবে সরকারি চাকুরীজীবীগণ যে যেখানেই নিয়োগ পান সময়ের ব্যবধানে নিজের পছন্দমত ভালো ও সুবিধাজনক জায়গায় সুযোগ নিয়ে জীবনটাকে সহজ ও আরামদায়ক করতে পারেন।
এক্ষেত্রে শিক্ষাজগতে ও এমপিওভূক্ত শিক্ষা নামের বিশাল একটি প্লাটফর্ম রয়েছে। যেখানে প্রায় ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক/কর্মচারী দেশের বিভিন্ন শিক্ষালয়ে কর্মরত। তাতে NTRCA সুপারিশে বহুলাংশেই দেশের একপ্রান্তের একজন শিক্ষক দেশের অন্যপ্রান্তে শুণ্যপদে নিয়োগ পান। নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান, এলাকা,পরিবেশ তথা সংস্কৃতির সাথে কোন ধরনের চেনা-জানা,বা সম্পর্ক না থাকাতে অনেক সময় নানাবিধ বিপদ সহ অনেক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। যা পরিবেশের বাস্তবতায় চোখ বুঝে মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ থাকেনা।শুধু দিন থেকে রাত,রাত থেকে দিন মানষিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন।
বৃদ্ধ বাবা-মা,ভাই-বোন, একজায়গায় আর চাকরি অন্য জায়গায় সময়ে অসময়ে, ভালো মন্দ,আনন্দ-উল্লাস, সুস্হ-অসুস্হতা বা জন্ম-মৃত্যুতেও কেউ কাউকে দেখার বা অংশ নেয়ার কোন সুযোগ থাকেনা। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিয়ের পর নতুন বউকে নিজের সাথে রাখার সুযোগটাও অনেক সময় লটারির মতো হয়ে যায়।
আর্থিক ব্যালেন্স সকল বিভাগকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পুরুটাই ব্যর্থ। ফলে নিয়োগ পাওয়ার পর দিন থেকে মাস, মাস থেকে বছর, নিদারুনভাবে নিজ কর্মে সময় কাটছেন শিক্ষকবৃন্ধ। নেই কোন সম্ভাবনা,নেই কোন আলোরমুখ, আছে শুধু নিরব কান্না,মর্মে-মর্মে বেদনা, আমার বাবা,মা,ভাই -বোন,স্ত্রী পরিজন কে কিভাবে আছে বা সময় কাটছে!! ইচ্ছে থাকলেও তোমাদের ভালো মন্দে অংশ নেয়ার কোন সুযোগ আমার ভাগ্যে হয়তোবা নেই। এই কি নিয়তি?
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের নিরব কান্না সরকার বাহাদুরের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের মনের কঠিন অংশটা কখন নড়বে? সরকারী চাকরি বিষয়ে দূর কথাটা কানে আসতে সাহস পায়না কারণ সময়ই তাদের আইন ও কৌশলগত নিয়মে খুব কম সময়েই কাছে আনতে সাহায্য করে। কিন্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে একি পাঠ্যসূচী, একি সিস্টেম ফলো করার পরেও কেন ভূক্তভূগী শিক্ষকদের সার্বজনীন বদলি বা ট্রান্সফার আইনটা পরিপত্রে আসছেনা? তাহলে কি বলতে হবে সরকারের আন্তরিকতার অভাব না শিক্ষকদের ভাগ্যের অভাব।
ভূক্তভূগী শিক্ষক কর্মচারীগণ মন-মননে,চিন্তা-চেতনায় দীর্ঘদিন ধরে বদলি বা ট্রান্সফারের যে স্বপ্ন দেখতেছেন তা আসলেই কী অবাস্হব,অযৌক্তিক না মূল্যহীন আকাঙ্ক্ষা।
সরকার বাহাদুর এমপিওভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে প্রক্রিয়াধীন বদলি ব্যবস্হা দ্রুত কার্যকর করবে অপেক্ষমান শিক্ষক কর্মচারীদের এটাই দাবি।