আশ্রাফুল আলম মোঃ নুরুল হুদা
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।
সংস্কার মানে পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন ও নতুনত্ব।
চলমান কোন বিষয় বা সিদ্ধান্তে কাম্য যতটুকু ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা প্রতিফলিত না হওয়ায় উন্নয়ন মুলক বিকল্প চিন্তা বা সিদ্ধান্তই সংস্কার।
পুরাতন,পরিত্যক্ত,জরাজীর্ণ, তথা সর্বসাধারণের সার্বিক কল্যাণে স্বাভাবিকভাবে যা অনেকটাই সময়ের বিবেচনায় অনুপযোগী।
ব্যক্তি, পরিবার থেকে ক্রমান্বয়ে সারা জগতব্যাপী এখন পরিবর্তনের হাওয়া বিদ্যমান। সকল মাঠেই এখন সর্বশেষ নতুনত্ব। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে নীরব বা লুকিয়ে থাকার কোন পরিবেশ এখন কোথাও নেই। সবকিছু এখন সকলের হাতে হাতে। যা কিছুদিন আগে কল্পনা বলে কথা ছিল।
তবে এর সঠিক ও নির্ভূল বিষয়সমৃদ্ধ দক্ষতা থাকলে বিজয় খুবই সন্নিকটে।
এ ক্ষেত্রে পরিবার,মহল্লা, সমাজ তথা গোটা দেশ বা দুনিয়া যাই হউক না কেন?
তবে সংস্কার শ্লোগান যতই আমরা বলি না কেন? তা কখনো ভালো ফলাফল আনতে পারবেনা।
আজ কথায়, কথায় সর্বক্ষেত্রে শুধু সংস্কার সংস্কার আওয়াজ বাতাসে উড়ছে। কারণ আমাদের কথা ও কাজের বিস্তর ফারাক। আমরা ছোট কাজ থেকে বড় বড় কাজে সমাজ,এলাকা ও রাষ্ট্রের কথা না ভেবে একান্তই ভিতরগতভাবে প্রহসন,আত্বীকরণ,স্বজনপ্রীতির নির্লজ্জ নেট তৈরী করে নিজের পকেট বোঝাই করেছি। এতে না ছিল সময়,পরিবেশ, তথা আগামীর কোন ভয়। ফলে গোটা পরিবেশ অসুস্হতার নোংরা চাদরে আবৃত হয়।
এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ক্ষেত্রমত যেখানে সমস্যা,পচন,তথা দুর্গন্ধের আভাস পাওয়া যায়, সে জায়গায় তা পরিবর্তন করে পরিবেশ উপযোগী সার্বিক কল্যাণের সঠিক সিদ্ধান্ত এড্রেস করা।
তবে সকল সংস্কারের সবচেয়ে বড় ফলদায়ক উত্তম সংস্কার হচ্ছে
সমাজের প্রতিটি মানুষের মনোজগতে সত্য, ন্যায়, কল্যাণ, বিনয়,নম্রতা তথা একে অন্যের প্রতি যার, যার সঠিক ইভালুয়েশন তৈরী হওয়া।
মনোজগতের মূল্যবোধ তৈরী করতে আমাদের মহানবী (সঃ) দেড় হাজার বছর আগে উম্মতকে সবক দিতে গিয়ে হাদীস বয়ান করেছেন।
انما الاعمال بالنيات
তোমাদের প্রত্যেকটা কাজের ফলাফল নির্ভর করবে তোমাদের সঠিক নিয়তের উপর। তোমরা মুখে যাই বলোনা কেন, মহান মা'বুদ তোমাদের ভিতর ও বাহিরের সকল বিষয়ে পুরপুরি অবগত।
এ হিসাবে ব্যক্তি নিজে যা নিয়াত করবে, সে সেই অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। এটাই স্বাভাবিক।
ফলে পরিবার, মহল্লা, সমাজ,দেশ বা গোটা দুনিয়াই সৃষ্টির কল্যাণে পরিবর্তন হতে বাধ্য।
আসুন,
আমরা প্রত্যেকেই যার, যার জায়গা থেকে নিজের হীন ব্যক্তি স্বার্থকে পিছনে ফেলে দেই। পিছনে ফেলে নিজের সঠিক নিয়াত ও ইচ্ছাকে সৃষ্টির কল্যাণে কাজে লাগাই। এতে প্রয়োজন নিজের বিবেকের সংস্কারে নিজেকে প্রতিজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকলের মঙ্গলে কবুল করুন।