☞আশ্রাফুল আলম মোঃ নূরুল হুদা
আমরা জাগতিক ধরায় সকলেই মাটির উপর বসবাস করি। জন্ম মৃত্যু উভয়টাই মাটির সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। ভূমিষ্ট হওয়ার আগে ছিলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুরক্ষিত জায়গা মায়ের গর্ভে। গর্ভপাত হওয়ার পর শুরু হয় মাটির সাথে মিতালী। শৈশব,কৈশোর, তরুণ, যুবক,পৌঢ় ও বৃদ্ধ নামের সকল বয়সকে মাটির সাথেই কাটাতে হয়।
মাটিঃ
মাটি এমন একটি উপাদান যা সারাক্ষণ ব্যবহার হতে প্রস্তুত। কিন্তু সে তার জীবনে কাউকে ব্যবহার করতে প্রস্তুত নয়।
তার কথা বলার ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা নেই ইচ্ছা শক্তির, ক্ষমতা নেই চলাচলের, ক্ষমতা নেই পালিয়ে যাওয়ার,ক্ষমতা নেই দাঁড়িয়ে ঝগড়া বা দাম্ভিকতা প্রদর্শনের।
আছে শুধু সকল সৃষ্টিকে সকল সময় বিনা বাক্যে সেবাদানের আনলিমিটেড মানষিকতা।
এতে নাই সময় ও ধর্মের কোন প্রশ্ন? এতে নাই সাদা-কালো,ধনী-দরিদ্র,উচু-নীচু,জাত-বেজাতের
কোন প্রশ্ন?
যখন যে যেভাবে ইচ্ছা করে, তখন সে সেভাবেই মাটিকে ব্যবহার করে। এতে মাটি থেকে কোন অভিযোগ পৃথিবী সৃষ্টি থেকে আজ অব্দি শুনি নাই। এমনকি শুনার ক্ষীণ সম্ভাবনাও নাই।
তবে মাটির নীরবতার মাঝেই ক্ষণস্হায়ী স্বার্থে আমরা সেরাজীবরা মাটিকে নিয়ে শুধু কথা বা মালিকানা নয়,শত সহস্র খুনের রক্তাক্ত লাল ইতিহাস তৈরী করে সভ্যতার মুখোশ নিয়ে বসে আছি।
অথচ, মাটি শুধু আমাদের বসবাসের ফ্যাসিলিটিই দেয়নি,
শরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সামগ্রিক সেবাদানে সে জোর গলায় অঙ্গিকারাবদ্ধ।
আমরা মাটি হতে অহংকারমুক্ত, হিংসামুক্ত,দাম্ভিকতামুক্ত,প্রচারণামুক্ত অভিযোগমুক্ত এমনকি হীন কম্পিটিশনমুক্ত সকল সেবা পাই।
অপরদিকে আরেক শক্তি সূর্য।
সূর্যঃ
লক্ষ,লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী মাইল উপরে আকাশে অবস্থান করে। নিজ অবস্থানে থেকে সে তার মনিবের রুটিন ওয়ার্ক অক্ষরে অক্ষরে ফলো করে। কোন অংশেই দায়িত্বের ঘাটতি নেই। দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত। সকল ধর্ম- বর্ণ,
ধনী-গরিব,সাদা-কালো,উঁচু-নীচু,জাত-বেজাত সবাইকে তার আলো সমভাবে বিতরণ করছে। এতে তার আলস্য বা কার্পণ্যতার কোন লেশ নেই। কিন্তু সূর্য কোন ব্যাপারে কখনই জাগতিক দুনিয়ার কারো কাছে কোন অভিযোগ শুরু থেকে আজ অব্দি উঠায়নি। এমনকি আগামীতেও উঠাবে এর ক্ষীণ সম্ভাবনাও নাই।
মনে হচ্ছে সেবার দিক বিবেচনায় অসাধারণ দুইটি ওয়ার্ড মাটি ও সূর্য। মনে হয় ওরা আলোকিত আপন সহোদর।
আর আমরা আশরাফুল মাখলুকাত হয়ে কতো রংয়ের রাস্তায় হাঁটতেছি। যা আমাদেরকে পদে পদে আখেরাতের কঠিন ময়দানে মারাত্মক হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
অথচ মাটি ও সূর্য পৃথিবী সৃষ্টি থেকে আজ অব্দি নিজ পজিশনেই বহাল। পক্ষান্তরে সেরাজীব মানুষ বহুরুপি চরিত্র নিয়ে অল্পকয়দিনে মালিক,মালিক শ্লোগান শেষ করে মাটির নীচে স্হায়ী বাসিন্দা হয়।
তাই আসুন, মাটি ও সূর্যের আলোকিত সেবা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনকে পরিচালনা করি।
হয়তোবা আমাদের নসিবে মুক্তির পয়গাম আসতেও পারে ইনশাআল্লাহ।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ।