সুনাম দিগন্ত পত্রিকার আয়োজন প্রবাসী কণ্ঠ'র হ্যালো বিভাগে আজকের অতিথি: পারভেজ মিয়া জিতু
জীবিকার প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের নিয়ে নিয়ে দৈনিক সুনাম দিগন্তের নিয়মিত আয়োজন 'হ্যালো প্রবাসী'র প্রথম পর্বে যুক্ত হয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী,রেমিট্যান্স যোদ্ধা পারভেজ মিয়া জিতু।পারভেজ মিয়া জিতু হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার, জয়কলস ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডুংরিয়া গ্রামের সন্তান।জীবিকার তাগিদে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান পারভেজ মিয়া জিতু।একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে এখনো তাঁর জীবন যাপিত হচ্ছে সৌদি আরবে।সেখানে তিনি একটি পারফিউম কোম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
দেশের বাইরে অবস্থান করলেও পরিবার,দেশ ও দশের জন্য তিনি নিবেদিত প্রাণ।আলাপচারিতায় বাইরের জীবন যাপন এবং দেশ নিয়ে ভাবনার কথাগুলো ফুটে উঠেছে।প্রবাসী কণ্ঠের হ্যালো বিভাগে পারভেজ মিয়া জিতুর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক সুনাম দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তৈয়বুর রহমান।
সুনাম দিগন্ত: আসসালামু আলাইকুম।কেমন আছেন?
পারভেজ মিয়া:ওয়ালাইকুম সালাম।আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?
সুনামদিগন্ত: ভালো। সাম্প্রতিক আপনি একটা কল্যাণমূলক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।সে বিষয়ে জানতে চাই।
পারভেজ মিয়া: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশী ভাইদের সমন্বয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।সংগঠনের নাম প্রবাসী সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা।এই সংগঠনে আমাকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।
সুনাম দিগন্ত: এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
পারভেজ মিয়া:আমি যাই ইনকাম করি তার একটা অংশ দেশের মানুষের কল্যাণে রেখে দেই।দেশ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন আর কম বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াইনি এমন খুব কম হয়েছে।এই সংগঠনের উদ্দেশ্যেও তাই।প্রবাসীদের ইনকামের একটা অংশ কল্যাণকর কাজের জন্য জমা থাকবে এবং জরুরি বা আপদকালীন মুহূর্তে এই অর্থ সহায়তা হিসেবে মানুষের জন্য ব্যয় হবে।
সুনাম দিগন্ত: দেশের বাইরেও থেকে দেশমাতৃকার কল্যাণে এমন চিন্তা ও কাজ কম মানুষেরাই করেন।আপনাদের সেবামূলক কাজগুলো কি কি?
পারভেজ মিয়া: আসলে এটা নির্ধারিত না।তবুও বিশেষ করে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী,কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা,শীতকালে কম্বল বিতরণ,বন্যায় ত্রাণ সহায়তার মত ভালো কাজ করা হয়।আপদকালীন সময়ে এরকম অল্প অর্থের কাজগুলোও মানুষের যে উপকারে আসে তা টাকা দিয়েও মুল্যায়ন করা যাবেনা।
সুনাম দিগন্ত: আপনি আর কি সংগঠনের সাথে জড়িত?
পারভেজ মিয়া: সামাজিক সংগঠন বিজয় সমাজকল্যাণ সংস্থা'র আমি বৈদেশিক পৃষ্ঠপোষক। যেকোনো প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।নিজের ঘাম জড়ানো পয়সা কেবল পরিবার পাবে, এমন ভাবা ঠিক না।মাঝে মাঝে আত্নতৃপ্তির জন্য হলেও ভালো কাজ করা উচিত।গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সময়ে এলাকার ভাই-ব্রাদাররা অনেকে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করেন।এলাকা থেকে কল সহযোগিতার কল এলে না করতে পারিনা।
সুনাম দিগন্ত:দেশের বাইরে থেকে আপনি কোন বিষয়টি বেশি অনুভব করেন?
পারভেজ মিয়া: আসলে প্রথম প্রথম পরিবার আত্নীয় সজনের জন্য খুব কষ্ট হত।তাদের মিস করতাম খুব।যদিও এই কষ্টটা আর আগের মত নেই।তবে মাঝে মাঝে পরিবারের সাথে থাকতে না পারার বিষয়টি খুব কষ্ট দেয়।যাইহোক,সব মিলিয়ে শুকরিয়া,পরিবার ভালো চলছে।
সুনাম দিগন্ত: আপনারা প্রবাসী। আপনাদের পাঠানো অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে।দেশে এলে কেমন অনুভব করেন?
পারভেজ মিয়া: আমাদের টাকায় দেশ চললেও প্রবাসীদের পরিবারদের জন্য সরকার তেমন কিছু করেনা।এর বাইরেও অনেক সময় এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়।আমি মনে করি প্রবাসীরা যেন সুন্দরভাবে দেশে যেতে ও আসতে পারে এজন্য সরকারের আরো আন্তরিক হওয়া উচিত।
সুনাম দিগন্ত: একজন প্রবাসী হিসেবে বাংলাদেশকে কিভাবে প্রত্যাশ করেন আপনি?
পারভেজ মিয়া:আমার কাছে কষ্ট লাগে।আমরা দেশে টাকা পাঠাই।সে টাকা পাচার হয় এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহার না হয়ে কোথায় যেন চলে যায়? মনে হয় প্রবাসীরা টাকা পাঠায় আর দেশের কর্তারা টাকা উধাও করে দেশকে খালি করে দেয় অথবা নিজেরাই রাতারাতি আঙ্গুল ফোলে কলাগাছের মত হয়ে যান।আমি চাই সবাই যেন আত্নাকে পরিষ্কার করে যার যার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে।দেশ দুর্নীতি মুক্ত হলে সবাই সুখী হতে পারবে।
সুনাম দিগন্ত: ধন্যবাদ পারভেজ মিয়া জিতু আমাদের সময় দেবার জন্য। প্রবাসে আপনার যাপিত জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক,এই প্রত্যাশা।
পারভেজ মিয়া: আপনিও ভালো থাকুন আর আমার দেশের মানুষও ভালো থাকুক।