✍️ রেজাউল করিম কাপ্তান
একসময় এই সমাজে ছিল এক তরুণ—তার নাম নিয়ম। ছোটবেলা থেকেই সে সততা, আদর্শ আর শৃঙ্খলার পথে চলত। নিয়মের কাছে নিয়ম মানা ছিল শুধু কর্তব্য নয়, বরং আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি। তার প্রতিটি কাজে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, সৌন্দর্য আর প্রশংসা পাওয়ার যোগ্যতা।
কিন্তু সমাজের অধিকাংশ মানুষ নিয়মের বিপরীতে হাঁটত। তারা ছিল ভিন্নপথের যাত্রী—যাদের নাম দেওয়া যায় একটাই, অনিয়ম। নিয়ম কখনোই অনিয়মকে সহ্য করতে পারত না। সে প্রতিবাদ করত, অন্যায়ের শৃঙ্খল ভাঙতে চাইত। এ কারণেই অনিয়মপন্থীরা একত্রিত হয়ে ষড়যন্ত্রে নামল। অপপ্রচার, কুৎসা আর বিদ্রূপের ঝড়ে তারা নিয়মকে স্তব্ধ করে দিতে চাইল। শেষমেশ নিয়ম ক্লান্ত, নীরব আর কিছুটা পরাজিত হলো।
তখন সমাজ এমন অবস্থায় পৌঁছাল যে মানুষ অনিয়মকেই নিয়ম ভেবে নিতে শুরু করল। সত্য-মিথ্যার সীমারেখা মুছে গেল। নিয়ম কেবল ইতিহাসের পাতায় বন্দী হয়ে রইল।
তবুও আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। একদিন কিছু বিবেকবান মানুষ—যারা ছিল নিয়মের উত্তরসূরি—জেগে উঠল। নিয়ম আবার শক্তি সঞ্চয় করল। তারা একত্রিত হয়ে সাহসের সঙ্গে অনিয়মের মুখোশ উন্মোচন করল। তখন মানুষ উপলব্ধি করল—যা এতদিন নিয়ম ভেবে মেনে নিয়েছিল, তা আসলে ছিল ভয়ঙ্কর অনিয়ম।
ফলে সমাজে নতুন সূর্যের উদয় হলো। অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। নিয়ম ফিরে পেল তার মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার। যারা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছিল, তারা পেল ভালোবাসা, সম্মান আর প্রশংসা। আর অনিয়মীরা নিক্ষিপ্ত হলো ঘৃণার আস্তাকুঁড়ে।
সমাজ বদলাতে হলে দরকার সাহসী তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা। তারা এগিয়ে এলে পরিবর্তনের স্লোগান বাস্তবে রূপ নেয়। তাই আসুন—নিজেকে বদলাই, সমাজকে বদলে দেই। আগামীর সমাজ ও রাষ্ট্র হোক মানবিকতার, প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকারের। এটাই নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক।